নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে বিএনপি। তার আগে দলের জেলা কাউন্সিল শেষ করতে চান নেতারা। এ কারণে রমজানেও চলছে বিএনপির জেলা কাউন্সিল প্রস্তুতির কাজ। অতীতে রমজানে এভাবে দলের পুনর্গঠন কাজ করতে দেখা যায়নি দলটিকে।
রমজানে দলের পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের দলের পুনর্গঠন কাজের গতি কমে গিয়েছিল। আমাদের হাতে সময় কম। দ্রুত পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে হবে। এ কারণে রমজানেও থেমে নেই জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠনের কাজ। ঈদের পরে একযোগে বেশ কিছু জেলার কাউন্সিল সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ চলছে জোরেশোরে। সব ইউনিটের কমিটি গঠন করার পর জেলা কাউন্সিল করার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে ঈদের পরে কাউন্সিল করার সম্ভাবনা বেশি। এভাবে সব জেলার পুনর্গঠন কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।’
আগামী বছরের শেষ নাগাদ অথবা ২০২৪ সালের প্রথম দিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হতে পারে। এ নির্বাচন সামনে রেখে আগেভাগেই দল গোছাতে চান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। সে কারণে আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ দলের কাউন্সিল করতে পারে এমন আভাস দিয়েছেন দলটির নেতারা।
সে ক্ষেত্রে বিএনপির কাউন্সিল কবে নাগাদ হবে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে জেলা কাউন্সিল শেষ হোক। তারপর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে কাউন্সিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
দলের কাউন্সিলের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো অনেক কিছু করে কিন্তু আমরা তো করতে পারি না। আমাদের পদে পদে বাধা দেওয়া হয়। সবার জন্য তো দেশে সমান সুযোগ নেই।’
দলের পুনর্গঠনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হবে। তাই আমাদের হাতে সময় কম। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে বলেছেন। তার নির্দেশে রমজানেও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর পুনর্গঠনের কাজ চলছে।’ তিনি বলেন, ১৬ এপ্রিল দিনাজপুর জেলা বিএনপির সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের পর হবে সৈয়দপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ের।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির অধীন সবগুলো ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন জেলার কাউন্সিল করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। দলের হাইকমান্ডের অনুমতি পেলে কাউন্সিল করবেন তারা। এ ছাড়া নোয়াখালী, ফেনী জেলার কাজ চলছে। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কাউন্সিল সম্পন্ন হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, রাজশাহী মহানগর, রাজশাহী জেলা, সিরাজগঞ্জে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। পাবনা ও নওগাঁর কার্যক্রম দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে।
ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, তার আওতাধীন জেলার ইউনিটগুলোর পুনর্গঠনের কাজ চলছে। জেলার সবগুলো ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ শেষ হলে জেলা কাউন্সিল হবে। ঈদের পরে জেলাগুলোর কাউন্সিল করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সবগুলো ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে। অনুমতি পেলে ঈদের আগেই কাউন্সিল করতে পারবেন ওই সব জেলার নেতারা।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। ঈদের পরে কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেবেন তারা।
বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোলা, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলা বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটি জমা আছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা কমিটিগুলো পর্যালোচনা করছেন। পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, ১৯ এপ্রিল গাজীপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
