গতকাল মধ্যরাতে পাকিস্তানের রাজনীতির মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘ক্যাপ্টেন’ ইমরান খানকে। পাকিস্তানের ইতিহাস বলে, গদিচ্যুত হওয়ার পরই সে দেশের প্রধানমন্ত্রীদের ঠাঁই হয় জেলে অথবা বিদেশে। নয়তো ফাঁসিকাষ্ঠে যায় গর্দান। মনে করা হচ্ছিল, সেই রীতি মেনেই আস্থা ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই গ্রেপ্তার করা হবে ইমরান খানকে।
কিন্তু বদলা বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পথে হাঁটবে না পাকিস্তানের নতুন সরকার। এমনই আশ্বাস দিয়েছেন সে দেশের ‘ভাবি’ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। টুইটারে লিখেছেন, “কারোর উপর কোনও বদলা আমরা নেব না। কাউকে জেলে ভরব না। কারোর বিরুদ্ধে কোনও অনৈতিক পদক্ষেপ করা হবে না। আইন আইনের পথেই চলবে’। কিন্তু শাহবাজের কথা আর কাজে কি মিল থাকবে, সেটাই এখন দেখার।
তবে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইমরান খান প্রমাণ করে দিয়েছেন ৭৫ বছরের ইতিহাসে তিনিই পাকিস্তানের দুর্বলতম প্রধানমন্ত্রী। ফলে, ক্ষমতা হারিয়েই ইমরানের দুর্ভোগ কমছে না। তাকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দেড় বছরে তথা বর্তমান সংসদের মেয়াদকালে ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি প্রমাণ করবে এই সরকার। প্রয়োজনে ইমরানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে তারা। যাতে দেশের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারান তিনি। যাতে নির্বাচন হলেও সরকার গড়ার স্বপ্ন না দেখতে পারেন ইমরান খান।
স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানের কোনও প্রধানমন্ত্রীই তার মন্ত্রিত্বের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। সেই রেকর্ড ভাঙার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন ইমরান খান। কিন্তু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল ইসলামাবাদে। তবে ইতিপূর্বে কোনও প্রধানমন্ত্রীকে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়নি। ইমরান খানই প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যাকে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হল।
