সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে থাকা ক্ষতিকর ও বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট অপসারণ নিয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে ফেইসবুক থেকে এসব কনটেন্ট সরাতে বিটিআরসিসহ (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, সেটি প্রয়োগে নিষ্ক্রিয়তা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না রুলে সেটিও জানতে চেয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই রাকিব। ব্যারিস্টার তাপস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত রুলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় বলেছে, রিট মামলা চলাকালে যারা ফেইসবুকে বিদ্বেষমূলক ও ক্ষতিকর পোস্ট দেবে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী যেন আইনি ব্যবস্থা নেয়।’
ফেইসবুকের অপব্যবহার ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ফেইসবুকের মূল কোম্পানি ‘মেটা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গসহ পাঁচজনকে বিবাদী করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন সাংবাদিক সালিম সামাদ, সমাজকর্মী ভিক্টর রে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক এস এম মাসুম বিল্লাহ ও আইনজীবী জর্জ চৌধুরী। রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক প্রচার বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত বছরের অক্টোবরে দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। ভিডিও, অডিও, ছবি পোস্টকে কেন্দ্র করে এর আগে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, সুনামগঞ্জের শাল্লা, ভোলার বোরহান উদ্দিনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ১৮ নভেম্বর বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠান তাপস কান্তি বল।
