এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা আগামী বছর সব বিষয় পূর্ণ নম্বরে

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০২:৪৯ এএম

আগামী বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব পরীক্ষা সব বিষয়ে এবং পূর্ণ নম্বরে হবে। তবে চলতি বছরের মতো সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং এইচএসসি ও সমমানে মার্চ পর্যন্ত চলবে।

বর্তমানে যারা দশম শ্রেণিতে পড়ছে, তারা আগামী বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে। নবম শ্রেণিতে তারা গত বছর (২০২১) ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ওই সময় থেকে চলতি বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহে দুদিন করে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওমিক্রনের সংক্রমণে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে তারা সপ্তাহে ছয় দিন করে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি ক্লাস হলে এ পরীক্ষার্থীরা নবম ও দশম শ্রেণি মিলে ১৬২ কর্মদিবস ক্লাস করার সুযোগ পাবে। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় এসএসসিতে মোট ৩১৬ কর্মদিবস ক্লাস করার কথা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এরা ২০২০ সালে অষ্টম শ্রেণিতে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা দিতে পারেনি, নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিতে পারেনি। যদিও এ পুরো সময়টায় টেলিভিশনের ক্লাসে এবং অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে, অ্যাসাইনমেন্ট করেছে। এসব ক্লাস এবং অ্যাসাইনমেন্টগুলো চলতি বছরের পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১৫০ কর্মদিবসের পরিমার্জিত পাঠ্যসূচি অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় ২০২৩ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা ২০২২ সালের পরিমার্জিত পাঠ্যসূচি অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে।’

বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালে এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ শিক্ষার্থীদের গত বছর ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস করার কথা ছিল। কিন্তু তারা ক্লাস শুরু করতে পেরেছে চলতি বছর ২ মার্চ থেকে, অর্থাৎ শুরুতেই তারা আট মাস ক্লাস পায়নি।

দীপু মনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তারা সব মিলিয়ে ২০০ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে। অবস্থা স্বাভাবিক থাকলে ৩৩০ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রম হতো। তিনি বলেন, ‘এ পরীক্ষার্থীরা ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ অবস্থায় ২০২৩ সালের এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষা ২০২২ সালের পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ১৮০ কর্মদিবসের পাঠ্যসূচি অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে।’

তবে এ বছর জেএসসি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানান মন্ত্রী। মহামারীর কারণে গত দুই বছর অষ্টম শ্রেণির এ সমাপনী পরীক্ষা হয়নি। সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে মাধ্যমিক এবং এপ্রিলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়ে এলেও করোনাভাইরাস মহামারী সেই সূচি পাল্টে দিয়েছে।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর আগেই এসএসসির পরীক্ষা নিতে পেরেছিল সরকার। পরে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সে বছর আর এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। তার বদলে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন ফল দেওয়া হয়। দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ২০২১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষাও পিছিয়ে যায়। ৯ মাস পিছিয়ে নভেম্বরে এসএসসি ও আট মাস পিছিয়ে ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকায় গত বছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয় তিন বিষয়ে। আর এইচএসসি পরীক্ষা হয় তিন বিষয়ের ছয়টি পত্রে।

এ বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা ১৯ জুন থেকে এবং এইচএসসি পরীক্ষা ২২ আগস্ট থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এবারও সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত