আসামিরা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন: আদালত

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০২:০১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লেখক ড. হুমায়ুন আজাদকে হত্যার দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৪ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুর ১২টায় ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, আসামিরা একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। প্রত্যেক আসামি সংগঠনের নির্দেশে সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর বোমা হামলা চালিয়ে আসছিল।

তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন মুক্তমনা লেখকের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

আদালত আরও বলেন, হুমায়ুন আজাদের মতো একজন বিশিষ্ট লেখকের ওপর হামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আসামিরা যে ধরনের জঘন্যতম অপরাধ করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। তাই তাদের প্রতি অনুকম্পা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই বিধায় তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হন অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ।

এ সময় তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ঘটনার পর দেশে ২২ দিন ও বিদেশে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা নেন তিনি।

একই বছরের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডি পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার আসামিরা হলেন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, হাফিজ মাহমুদ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে। হাফিজ মারা গেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত