ভবিষ্যতে ফেসবুকে ‘আজ আমার মন খারাপ’- এমন স্ট্যাটাস দিলেও আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের। ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নতুন বিধিমালার যে খসড়া তৈরি করেছে সেখানে এ ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শনিবার মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত এক ওয়বিনারে এমনটাই বলা হয়েছে। সূচনা বক্তব্য দেন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদিন মালিক। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক সুপন। মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য রাখেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক নূরাণ চৌধুরী।
ড. শাহদিন মালিক বলেন, আইনে যদি সবকিছু পরিষ্কার না থাকে, অনেক বেশি অস্পষ্টতা থাকে তাহলে সেটা অপব্যবহার সুযোগও সৃষ্টি হয় বেশি। ডিজিটাল, মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য যে বিধিমালা করা হচ্ছে সেটার ভেতরেও একই ধরনের অবস্থা দেখা যাচ্ছে। এই বিধিমালা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তিনি বলেন, ‘সম্ভবত, নির্বাচনের আগে কর্তৃত্ববাদী সরকার আরও বেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এ ধরনের আইন ও বিধিমালা করে।’
মূল প্রবন্ধে মাহফুজুল হক সুপন বলেন, বিটিআরসি বিধিমালার যে খসড়া দিয়েছে সেখানে টার্গেট করা হয়েছে মূলত ডিজিটাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টকে। যে কনটেন্ট পছন্দ হবে সেটা রাখবে, যেটা তাদের পছন্দ হবে না, সেটা বন্ধ করে দেবে। শুধু তাই নয়, এই বিধিমালায় হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের এনস্ক্রিপটেড কোনো তথ্য যাবে না, এমন কথাও বলা হয়েছে। এর অর্থ কর্তৃপক্ষ মানুষের ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় প্রবেশাধিকার চায়। এনক্রিপশন না থাকলে কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় যে কারও আলাপে ঢুকে পড়তে পারবে।
তিনি বলেন, ‘এটা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থী। কারণ চিঠি সংক্রান্ত আইনেও বলা আছে- কারও ব্যক্তিগত চিঠি খুলে পড়া যাবে না। সেই অনুসারে জাতিসংঘও বলছে ডিজিটাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্যের ও গোপনীয়তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, জাতিসংঘ এনক্রিপশনকে সমর্থন করেছে। কিন্তু বিটিআরসি'র এই বিধিমালায় দেশের সংবিধান, আইন ও জাতিসংঘের ঘোষণাকে অস্বীকার করে এর বিপরীতে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এ বিধিমালা জারি হলে তা দেশের মানুষের মত প্রকাশের অধিকারকে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করবে। এমনকি কেউ যদি ফেসবুকে 'আজ আমার মন খারাপ'-এ ধরনের স্ট্যাটাস দিলেও বিটিআরসি'র নতুন বিধিমালার আওতায় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
