সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুই-এক দিনের মধ্যে যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ০২:০৬ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ এ সময় তিনি ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল বন্ধ করারও নির্দেশ দেন। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ যাতে যানজটমুক্তভাবে চলাচল করতে পারেন সে জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাজাহান খান, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মল্লিক ফকরুল ইসলাম প্রমুখ।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের ঢাকা শহরে অনেকগুলো উন্নয়নকাজ চলছে। এটি যানজটের একটি কারণ। এ ছাড়া অনেক দিন পর মানুষ কভিড-১৯ থেকে মুক্ত হয়ে ঘর থেকে বের হয়েছে। এর মধ্যে ঈদের সময় চলে আসছে। সবাই মার্কেটমুখী। এটা হঠাৎ করেই হয়ে গেছে। রাজধানীতে যানজটের কিছু কারণের মধ্যে এটাও একটি কারণ। যানজট নিরসনের জন্য ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ বিভাগ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। আগামী সাত দিনে তারা কী করবেন তারও একটা কর্মপদ্ধতি তারা বের করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেস, মেট্রোরেল ও অন্যান্য ফ্লাইওভারের জন্য কিছু রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা আছে। এ ছাড়া হঠাৎ করেই কভিডের কারণে যে বাধ্যবাধকতা ছিল তার বাইরে মার্কেটগুলো চলে আসছে। আপনারা জানেন ছুটির দিনগুলোতেও তারা মার্কেট খোলা রাখছে। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে রিকশার অবাধ চলাচল এবং মোটরসাইকেলের দৌড়াত্ম্য, এসবও রাজধানীর যানজটের একটা বড় কারণ।’ এটা সমাধানের উপায় কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশা রাস্তায় ছিল। তিনি মহানগর পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কমিশনার মহোদয়, আইজি মহোদয় এটা বন্ধ করে দিতে পারেন। জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, চোখ ফাঁকি দিয়ে দু-একটা চলতে পারে। এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, অহরহ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ কমিশনারকে বলেন, এখন এটা বন্ধ করে দেন। আপনি অ্যানাউন্স করে দেন, আগে যেভাবে রিকশা চলত, সেভাবে চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কারখানায় ছুটি যদি একসঙ্গে হয় তাহলে আমাদের হিসাবে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ঢাকা ত্যাগ করবে। এরা শুধু শ্রমিক, এর সঙ্গে অন্য মানুষ তো আছেই। কাজেই যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। পর্যায়ক্রমে ছুটিগুলো দিলে সেটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হবে। পোশাক কারখানাগুলো এক দিনে ছুটি দিলে ঈদে বাড়ি ফেরার ভোগান্তি অনেক বেড়ে যাবে উল্লেখ করে ধাপে ধাপে ছুটির অনুরোধ করা হয়েছে। আমাদের বড় বড় শিল্প একসঙ্গে শ্রমিকদের ছুটি না দিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করছি যে ছুটিটা কীভাবে দেবে। শ্রম মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বেতন-বোনাস পরিশোধ এবং ছুটির বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেটি যেন মেনে চলা হয়, তার ওপরও জোর দেওয়া হয় সভায়। আশা করছি ২৫ এপ্রিলের মধ্যে সব রাস্তা সচল হবে। যেখানে খানাখন্দ আছে, সেগুলোও মেরামত করা হবে।’ এটি যেন কার্যকর হয় এ জন্য আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে আবারও বসা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো অসুবিধা পাওয়া যায়, সেটি চিহ্নিত করে সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত