রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বিনিয়োগ চেয়ে এসইসির চিঠি

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ১১:৫০ পিএম

পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংককে বিনিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের পাশাপাশি বাজারে নতুন বিনিয়োগ করতে গতকাল বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে ব্যাংক চারটিকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তাদের পোর্টফোলিও বিনিয়োগের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোকে পাঠানো এসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে, এককভাবে একটি ব্যাংক তার ইকুইটির ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে। ফলে বিদ্যমান আইনি সীমার মধ্যেই এ ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে আরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যক্তিশ্রেণির। এটিকে স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের একটি বাধা হিসেবে মনে করে এসইসি। এসইসির চিঠিতে বলা হয়, স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য থাকা প্রয়োজন। এতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত এ চার ব্যাংক এখনো বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেনি। ফলে প্রচলিত সুযোগের পাশাপাশি বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এর আগে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক তারল্য সংকটের সময় দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায় এসইসি। একইভাবে অ-তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলোকেও নির্ধারিত বিনিয়োগের উদ্যোগ নিতে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএকে অনুরোধ জানিয়েছিল কমিশন। তবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বাড়েনি। ২০২০ সালের শুরুর দিকে পুঁজিবাজারের বড় পতন হলে বাজারের উন্নয়নে প্রতিটি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকার ‘বিশেষ তহবিল’ গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, যা বিনিয়োগ সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত এ চার বাণিজ্যিক ব্যাংক এখন পর্যন্ত ওই ‘বিশেষ তহবিল’ গঠন করেনি। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে তাদের নতুন বিনিয়োগও সন্তোষজনক নয় বলে এসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত