রোজার কাফফারা প্রসঙ্গে
মো. হারুনুর রশিদ, সরাইল, বি. বাড়িয়া
প্রশ্ন : আমি গত রমজানে রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত রোজা ভেঙে ফেলি। তাই আমার ওপর একটি রোজার কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। শুনেছি এজন্য আমাকে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। জানতে চাই, চন্দ্র মাস হিসাবে রাখলেও কি ৬০ দিন পূর্ণ করতে হবে?
উত্তর : চন্দ্র মাসের প্রথম তারিখ থেকে কাফফারার রোজা শুরু করলে পরপর দুই মাস রোজা রাখলেই কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে ৬০ দিন পূর্ণ করা জরুরি নয়। দুই মাসে যত দিনই হোক তাতেই কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি চন্দ্র মাসের পহেলা তারিখ থেকে কাফফারার রোজা শুরু না করা হয় তাহলে ধারাবাহিক ষাটটি রোজা রাখতে হবে। ফতহুল কাদির : ৪/২৩৮
রোজা অবস্থায় রক্ত দেওয়া
মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ
প্রশ্ন : এক ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় ভাইকে রক্ত দিয়েছে। এতে কি তার রোজা ভেঙে গেছে বা কোনো ক্ষতি হয়েছে?
উত্তর : রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা নষ্ট হয় না। কারণ শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া রোজা ভঙ্গের কারণ নয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় শিঙা লাগিয়েছেন। সুতরাং রোজা অবস্থায় প্রয়োজনে রক্ত দেওয়া যাবে। তবে রক্ত দেওয়ার কারণে কারও যদি এত দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় যে, সে রোজা পূর্ণ করতে পারবে না। তাহলে তার জন্য রক্ত দেওয়া মকরুহ। তাই এ ধরনের ব্যক্তি অতীব প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা রক্ত দেবে না। সহিহ্ বোখারি : ১/২৬০
সফর অবস্থায় বিনাওজরে রোজা ভাঙা
মকবুল আহমদ, মৌচাক, ঢাকা
প্রশ্ন : এক লোক রমজান মাসে দিনের বেলা রোজা অবস্থায় সফরে বের হয়। সফরের একপর্যায়ে সে এই ভেবে রোজা ভেঙে ফেলে যে, সফরে তো রোজা না রাখার সুযোগ আছে। জানার বিষয় হলো, এই ব্যক্তির রোজা ভেঙে ফেলা কি ঠিক হয়েছে? আর পরবর্তীসময়ে তাকে কি শুধু কাজা করতে হবে? নাকি কাজা-কাফফারা উভয়টিই ওয়াজিব হবে?
উত্তর : ওই ব্যক্তির রোজা ভেঙে ফেলা নাজায়েজ হয়েছে। এ রোজা পূর্ণ করা জরুরি ছিল। সফরের কারণে রোজা ভাঙা যায় না। সফর অবস্থায় দিনের শুরু থেকে রোজা না রাখার সুযোগ আছে। রোজা রেখে বিনাওজরে ভেঙে ফেলার সুযোগ নেই। অবশ্য এ ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে ফেলার দরুন তার ওপর শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। মোট কথা, রোজা যেহেতু একটি ফরজ ইবাদত এটা পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। আল বাহরুর রায়েক : ২/২৯০
