পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে ফ্রান্সে গতকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। মূলত দ্বিতীয় দফার এ নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরি লা পেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফ্রান্সে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটগ্রহণ শেষ হবে ফরাসি সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা)। এর আগে ২০১৭ সালেও এ দুই প্রার্থী নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন। তবে শেষ হাসি হেসেছিলেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
রবিবার ফরাসি নাগরিকরা এমন একটি নির্বাচনে ভোট দেওয়া শুরু করেছেন যেটাতে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার পদে বহাল থাকবেন নাকি কট্টর ডানপন্থি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী লা পেন জয়লাভ করবেন; ভোটগ্রহণের মাধ্যমে কার্যত সেটিই ঠিক হতে চলেছে। রয়টার্স বলছে, বর্তমান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে পরাজিত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধী ও কট্টর-ডানপন্থি বলে পরিচিত মেরি লা পেন যদি নির্বাচিত হন তাহলে তা হবে একটি ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’। অবশ্য সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এগিয়ে রয়েছেন বলে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, কট্টর-ডানপন্থি নেত্রী ৫৩ বছর বয়সী লা পেন সাম্প্রতিক সময়ে তার ভাবমূর্তি কিছুটা উদার করার এবং তার ন্যাশনাল র্যালি পার্টির কঠোর কিছু নীতির বিষয়ে সুর নরম করার পরও ফরাসিদের অনেকের কাছেই তিনি এখনো অজনপ্রিয় হিসেবেই রয়ে গেছেন।
জনমত জরিপে ৪৪ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁ এগিয়ে থাকার পরও লা পেনের আশ্চর্যজনক বিজয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ দ্বিতীয় দফার এ নির্বাচনে বহুসংখ্যক ভোটার শেষ পর্যন্ত কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে শেষমুহূর্তেও তারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বলে জরিপে দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে ফ্রান্সে একাধিক আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয়েছে ম্যাক্রোঁকে। ওই আন্দোলনগুলোর অধিকাংশই ছিল ম্যাক্রোঁবিরোধী। ফলে এ বিরোধিতা ম্যাক্রোঁর ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে; কোনো প্রার্থীই ভোটারদের মন পুরোপুরি জয় করতে পারেননি। আর তাই ২০১৭ সালের নির্বাচনের পর থেকে দায়িত্ব পালন করা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ওপর ক্ষোভের কারণে অনেক ভোটার হয়তো বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এতে আরও বলা হয়, নির্বাচনে যদি লা পেন জয়ী হন তবে এটি সম্ভবত ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়া বা ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার মতোই অপ্রত্যাশিত হবে। এ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক নীতিনির্ধারণও জড়িয়ে আছে। প্রসঙ্গত, নিয়ম অনুযায়ী ফরাসি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে হয়। প্রথম রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারেন। গত ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রথম দফার ভোটে ম্যাক্রোঁ এবং লা পেন সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। প্রথম দফার ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ডানপন্থি মেরি লা পেনের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তা ছিল খুবই স্বল্প ব্যবধানে। প্রথম দফায় ম্যাক্রোঁ এবং লা পেন অন্যদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ভোট পান। আর তাই তাদের দুজনকে এখন দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে এবং এ দফার ভোটের হিসাব-নিকাশ এমনই যে, শেষ পর্যন্ত কে যে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এলিসি প্রাসাদে ঢুকবেন তা বলা যাচ্ছে না।
