শেরপুরে অজ্ঞাত রোগে শতাধিক গরুর মৃত্যু

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২২, ১২:০২ এএম

শেরপুর জেলা সদরের পাকুরিয়া ইউনিয়নের তিলকান্দি, পূর্বপাড়া ও ভাটিয়াপাড়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ‘দুধ গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। কারণ ওই গ্রামগুলোর ছোট ছোট শতাধিক খামারের সহস্রাধিক গরুর দুধ দিয়ে শেরপুর জেলা সদরের বিভিন্ন বাজার এবং শহরের প্রায় সব মিষ্টির দোকানে দুধের চাহিদা পূরণ হয়। গ্রামগুলোর সাধারণ কৃষকরা তাদের ধান ও সবজি চাষের পাশপাশি ছোট ছোট গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। কিন্তু গত তিন মাসে অজ্ঞাত রোগে কৃষকদের শতাধিক গরু মারা গেছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই মারা গেছে প্রায় ৭০-৮০টি গরু। একের পর এক গরু মরে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা। অজ্ঞাত এ রোগ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কিছুই জানে না। তারা এটাকে গরুর মড়ক স্বীকার না করে বলেছে স্বাভাবিক মৃত্যু। তবে এ বিষয়ে প্রাণী সম্পদ অফিস একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করে খামার করে সেই খামারে রাতারাতি গাভী, ষাঁড়, বকনা, বাছুর এবং দুগ্ধবতী গরু মারা যাচ্ছে। ফলে যারা দুধ বিক্রি করে সংসার চালাত, তারা পড়েছে বেকায়দায়। গরুগুলো হঠাৎ করেই কখনো মুখ দিয়ে লালা ফেলে, আবার দুগ্ধবতী গরু হঠাৎ করে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা পড়ছে। পশু চিকিৎসক ডেকে আনলেও তারা কোনো রোগ ধরতে পারছেন না।

পূর্বপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজিজুল হক বলেন, ‘আমার দুটি গাভী এই অজ্ঞাত রোগে মারা গেছে, যার মূল্য ৭ লাখ টাকা। অনেক চিকিৎসা করেছি কিন্তু কাজ হয়নি।’

তিলকান্দি গ্রামের দিনমজুর হামিদুর ও জহুরুল জানান, তাদের দুজনেরই দুটি করে ষাঁড় মারা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন জানালেন তাদের ছয় দিনের বাছুর এবং দুগ্ধ গাভী মারা গেছে।

গরুর মড়কের কথা অস্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কান্তি দত্ত বলেন, ‘কিছু কিছু বেসরকারি বীজ বিক্রয়কর্মী খামারিদের দ্রুতবর্ধন বাছুরের লোভ দেখিয়ে শতভাগ ফ্রিজিং করা বীজ সরবরাহ করে। এসব বীজ থেকে প্রসব করা বাছুর শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা পড়ে। কারণ এসব গরু আমাদের দেশের আবহাংওয়ার উপযোগী নয়। এছাড়া কিছু স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকেও তারা এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছে। তবে নতুন কোনো রোগে গরু মারা যাচ্ছে কি না তা চিহ্নিত করতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং আর কোনো গরু যাতে মারা না যায় তার জন্য তদারকি করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত