করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর পুরান ঢাকায় উৎসবে ভাটা ছিল। কোনো মেলাই বসতে পারেনি লকডাউন ও বিধিনিষেধের জন্য। তবে এবারের ঈদে মহামারিমুক্ত পরিবেশে জমে উঠেছে পুরান ঢাকার উৎসব।
পুরান ঢাকার বংশালের ফ্রেঞ্চ রোড নয়াবাজারে ঈদের দিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী চলছে আনন্দ মেলা। স্থানীয়সহ আশপাশের মানুষ ভিড় করছে এই আনন্দ মেলা দেখতে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় একসময় অনেক মেলা হতো। কিন্তু এখন আর আগের মতো মেলা দেখা যায় না। তবে বংশালে ‘আনন্দ মেলা’এবার জমে উঠেছে। আয়োজকদের জন্য ফের মেলা দেখতে পেলে পুরান ঢাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১১ টার পর থেকে মেলা চালু হলেও মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে বিকাল চারটার পর থেকে। শিশুরা বেশি উপভোগ করছে মেলায় এসে। আশপাশে তেমন বড় কোনো মেলা না হওয়ায় এই মেলার দিকে ঘুরতে আসছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। মেলা কমিটি সার্বিক পরিস্থিতি দেখার জন্য মেলার ভলান্টিয়ার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চারপাশ ঘিরে রেখেছে।
আট বছরের ছোট সাজিদ রহমান মেলায় এসেছেন নৌকায় চড়তে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই এলাকায় পুকুর আছে। কিন্তু নৌকায় ওঠা হয়নি। এখানে বংশাল পুকুরে সুন্দর নৌকা সাজানো হয়েছে। এটাই ওঠার জন্যই মেলায় এসেছি।’
দশ বছরের মো. শাওন মেলায় খেলনা কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মেলায় অনেক রকম খেলনা আছে। খেলনা কিনতে বেশ ভালো লাগে। তা ছাড়া, অনেক রাইড আছে মেলায়। সেগুলোতেও উঠব।
মেলায় খেলনার দোকানের মো. পারভেজ জানান, মেলাতে ভালোই বেচাকেনা হয়েছে। গত দুই বছর তো আর কোথাও মেলা হয়নি। অনেক লোকসানে ছিলাম। এখন কিছুটা হলেও ভালো হয়েছে বলে দাবি করেন এই বিক্রেতা।
মেলা পরিচালনায় থাকা রাব্বী রহমান রনো জানান, ‘মেলায় শিশু থেকে শুরু করে সবার জন্য বিভিন্ন রাইড আছে। এখানে সান্তা মারিয়া নৌকা, নাগরদোলা, ইলেকট্রিক হর্স রাইড, চরকি, ট্রেন, ঘোড়া গাড়ি, জাম্পিং প্যাড, ফোর হর্স রাইড, পুতুল নাচ, ঐতিহ্যবাহী নৌকা ভ্রমণ ও খেলনার বিভিন্ন পশরাসহ খাবারের স্টল আছে। এছাড়া আতশবাজি, সারফি লেজার, আকর্ষণীয় লেজার আলোক সজ্জা রয়েছে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে।
বংশাল থানা আওয়ামী লীগের ৩৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতায় দায়িত্বে আছেন এস আই ফারিয়াদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় বিনোদনের তেমন জায়গা নেই। সে জন্য ঈদে যেন পুরান ঢাকার বাসিন্দারা কিছুটা হলেও বিনোদনের পায় তাই এই মেলা করা। এখানে যে রাইডগুলো আছে অন্য যে কোনো জায়গা থেকে কম টাকায় এখানের সেগুলো উপভোগ করতে পারবেন আগতরা। মেলা শেষ হয়ে যাবে শুক্রবার । তবে সামনের ঈদগুলোতে আরও সুন্দরভাবে মেলার আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
