কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলায় ১২টি ইটভাটার মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ, যাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। কারও কারও ছাড়পত্র থাকলেও মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করা হয়নি। এসব অবৈধ ইটভাটায় দেদার পাহাড়ের মাটি কেটে আনা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি বনের গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও পাঁচ মাসেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈঙ্গাকাটা এলাকার জনৈক মীর কাশেমের মালিকানাধীন এম কে বি ও মো. আবুল হাসেমের মালিকানাধীন এএইচবি ব্রিকস্ নামে অবৈধ ইটভাটা দুটি অপসারণে দিল মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। এরপর গেল বছরের ৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ১০ জনের নামে রুল জারি করে হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ইটভাটা দুটি অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু ভাটা দুটি এখন পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি। ভাটার মালিকরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ দুটি ইটভাটার পাশাপাশি একই ওয়ার্ডে আরও চারটি ইটভাটা রয়েছে। সেগুলোও একই কায়দায় নিয়মবহির্ভূতভাবে চলছে। পাহাড়ি মাটি দিয়ে তৈরি করছে ইট। ভাটার পাশের পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করছে তারা। সরকারি বনের গাছ কেটে জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান থেকে বাঁচার জন্য সামান্য কিছু কয়লা মজুদ করে রাখছেন ভাটার মালিকরা। ভাটাগুলো ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে হওয়ায় জমির চাষে প্রভাব ফেলছে ও শিক্ষাঙ্গনের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এ ছাড়া উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী, লেদা ও মোছনী এলাকায় আরও ছয়টি ইটভাটা রয়েছে। সেগুলোতেও পাহাড়ি মাটি, বনের গাছ দিয়ে ইট তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এগুলো ঘনবসতি ও সরকারি বাগানের পাশে হওয়ায় এলাকায় বসবাসকারীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, বনও ধ্বংস হচ্ছে। এসব ভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলারও সাহস করেন না।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হুদা বলেন, ‘ইটভাটা দুটি বন্ধ না করতে মালিকদের পক্ষ থেকেও আদালতে পাল্টা রিট করায় আমরা বন্ধ করতে পারিনি। তবে আদালত সরাসরি আমাদের নির্দেশ দিলে আমরা ভাটা দুটি বন্ধ করে দেব।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘যারা আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা রয়েছে, তাদের কোনো তৎপরতা আমরা দেখছি না। এখন তারা উচ্চ আদালতের আদেশ পালনেও উদাসীন।’ হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও দুটি ইটভাটা অপসারণ না করার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কায়সার খসরু বলেন, ‘যদি কোর্টের কোনো নির্দেশনা থাকে তা তো আমাদের মানতেই হবে। ব্যবস্থা তো নিতেই হবে। তবে ব্যস্ততার কারণে একটু সময় লাগছে।’
