আসছে ১২ মে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সাত বছর পর হতে যাওয়া সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নানামুখী তৎপরতায় উদ্দীপ্ত নেতাকর্মীরা। আর পদপ্রত্যাশী নেতারা ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। এখন জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে চায়ের আড্ডা, চলতি পথের আলাপ কিংবা ঘরোয়া আড্ডাতেও প্রশ্ন উঠছেÑ কারা আসছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে?
জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়ক ছাড়াও বিভিন্ন থানা এলাকার মহাসড়কগুলোতেও পদপ্রত্যাশীদের নাম ও ছবি সংবলিত বড় বড় বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও তোরণ স্থাপন করে জানান দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন পোস্টার লাগছে শহরের আনাচে-কানাচে দেয়ালে। অনেকে পছন্দের নেতাদের নামে এসব লাগিয়ে নিজেদের প্রচারও করছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে ডজনেরও বেশি পদপ্রত্যাশীর নাম। সভাপতি পদে শোনা যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন, সহ-সভাপতি শামীম হক, আরেক সহ-সভাপতি সামসুল হক ভোলা মাস্টার, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন, সাইফুল আহাদ সেলিম, বোয়ালমারী আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ এমন মোশাররফ হোসেন মুশা মিয়ার নাম।
সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বেগম ঝর্ণা হাসান, কামরুজ্জামান কাফি, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অমিতাভ বোস, আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠুর নাম। এছাড়া, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ রায় এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদের নামেও বিলবোর্ড ও ফেস্টুন দেখা গেছে। এখন নানা হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণ চলছে পদপ্রত্যাশী এসব নেতাকে নিয়ে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, বিশ্বাস করি দীর্ঘ সময় ধরে যারা স্বাধীনতার সপক্ষের রাজনীতিতে রয়েছেন তাদের মধ্য থেকেই এবং পরীক্ষিতদের নিয়েই কমিটি গঠিত হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ করতে চাই। প্রত্যাশা করি দলের প্রতি যাদের দীর্ঘ সময় আনুগত্য তাদের দিয়েই আগামী দিনের কমিটি হবে। কোনো চাঁদাবাজ দলের ক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থের মালিক হবে এমন নেতা চাই না।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলা আওয়াামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ মার্চ। ওই সম্মেলনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। এর এক বছর পর ৭১ সদস্য নিয়ে প্রকাশ করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
