‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’, ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো, চাঁদ বুঝি তা জানে’Ñগানের রচয়িতা সাংবাদিক কে জি মোস্তফা মারা গেছেন। গতকাল রবিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার আজিমপুরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৪ বছর। কে জি মোস্তফার জামাতা মকবুল হোসাইন দেশ রূপান্তরকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার বাদ জোহর জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মাহমুদুন্নবীর গাওয়া ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’ এবং তালাত মাহমুদের কণ্ঠে গাওয়া ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো, চাঁদ বুঝি তা জানে’ গান তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে গেছে। এ ছাড়াও অনেক গান লিখেছেন তিনি। কে জি মোস্তফা জাতীয় প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য।
গীতিকার হিসেবেই কে জি মোস্তফা বেশি পরিচিত। ১৯৬০ সাল থেকে চলচ্চিত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনে তার লেখা প্রচুর গান প্রচারিত হয়। হাজার গানের গীতিকার কে জি মোস্তফার লেখা সিনেমার গানগুলো খুবই জনপ্রিয়। তার গানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী তালাত মাহমুদ এবং বাংলাদেশের খ্যাতিমান প্রায় সব শিল্পী কণ্ঠ দিয়েছেন।
তিনি একজন সফল সাংবাদিক এবং কলামিস্ট ছিলেন। জন্ম ১ জুলাই ১৯৩৭ সালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। দৈনিক ইত্তেহাদে ১৯৫৮ সালে শিক্ষানবিশ হিসেবে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি।
১৯৬৮ সালে সাপ্তাহিক জনতায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা কফিলউদ্দীন চৌধুরীর প্রেস সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। ওই সময় পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্র্তৃক প্রথম শ্রেণির রেডিও সার্ভিসের জন্য মনোনীত হন। মুক্তিযুদ্ধের কারণে চাকরিতে যোগদান থেকে বিরত থাকেন। স্বাধীনতার পর কে জি মোস্তফা প্রথমে ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’, পরে ‘দৈনিক স্বদেশ’ পত্রিকায় চিফ রিপোর্টারের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৬ সালে বিলুপ্ত সংবাদপত্র দৈনিক বাংলার একজন সাংবাদিক হিসেবে কে জি মোস্তফা বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত হন এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে সম্পাদক, পরে সিনিয়র সম্পাদক পদে উন্নীত হন। অবসর নেন ১৯৯৬ সালে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা ‘নবারুণ’, সাহিত্য মাসিক ‘পূর্বাচল’, ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সংবাদ’ এবং সর্বশেষ ‘সচিত্র বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দক্ষতা ও কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
একসময় তিনি নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকে ঝুঁকেছিলেন। ‘মায়ার সংসার’, ‘অধিকার’ ও ‘গলি থেকে রাজপথ’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছেÑ কাব্যগ্রন্থ : কাছে থাকো ছুঁয়ে থাকো, উড়ন্ত রুমাল, চক্ষুহীন প্রজাপতি, সাতনরী প্রাণ, আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন, এক মুঠো ভালোবাসা, প্রেম শোনে না মানা। গদ্যগ্রন্থ : কোথায় চলেছি আমি (সরস আত্মকাহিনী)। ছড়ার বই : শিশু তুমি যিশু, কন্যা তুমি অনন্যা, মজার ছড়া শিশুর পড়া। গানের সিডি ও ক্যাসেট : তোমারে লেগেছে এত যে ভালো, তৃষ্ণা আমার হারিয়ে গেছে, কাছে থাকো ছুঁয়ে থাকো।
