যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা চায় না বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশ দেশটির কাছে এখন মুক্ত বাণিজ্যের (এফটিএ) সুবিধা চায়।
গতকাল সোমবার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জিএসপি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে খুবই কথা বলি। ইন্ট্যান্স অব টোটাল মানি ইজ নট এ বিগ ডিল। আমাদের গার্মেন্টস পণ্যে তারা প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ চার্জ করে। আর টিকফার আওতার দেশগুলোকে ৫ শতাংশ শুল্ক চার্জ করে থাকে। আমরা শুল্ক কমানোর জন্য বলেছি। আমরা এখন এলডিসি উত্তরণের পথে, আমরা চাই মুক্ত বাণিজ্য সুবিধা।’
বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের কাছে রাইজিং স্টার হিসেবে অভিহিত করেছেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারসহ অন্য দেশগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ অনেক বেশি। সে হিসেবে বাংলাদেশে তাদের তুলনামূলক বিনিয়োগ অনেক কম। আমাদের এখানে দেশটির প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মধ্যে ৯০ ভাগ বিনিয়োগই জ্বালানি খাতে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আইটি খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্লু-ইকোনমিসহ আমাদের এখানে বিনিয়োগের অনেক ক্ষেত্র ও সুযোগ রয়েছে। সেগুলোতে বিনিয়োগ করতে বলেছি, এতে তারাই লাভবান হবে। বিশেষ করে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খুবই কম। এ খাতে টেকনোলজিসহ অন্যান্য সুবিধা চেয়েছি। এছাড়া প্রায় সাড়ে ৬ লাখ আইটি ফ্রিল্যান্স আমাদের রয়েছে, এ খাতেও টেকনোলজির সুবিধা আমাদের দরকার।’
ড. মোমেন বলেন, ‘বিজনেস কাউন্সিলে ২৭ জন ডেলিগেশন এসেছে। বাংলাদেশ নিয়ে আগে তাদের খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও এখন একটু আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমরা এটি জিইয়ে রাখতে চাই। বৈঠকে ঠিক করবেন কোন খাতগুলোতে কাদের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে চান। কারণ এ বিষয়টি পুরোপুরিভাবেই বেসরকারিনির্ভর।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এমন এক সময় এসেছে যে, আগামী জুনের ২ তারিখে জয়েন্ট কনসালটেটিভ বৈঠক রয়েছে। আমেরিকার ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষমতাধর, তারাই অনেক কিছু রান করে। তাদের সঙ্গে বহু দেশের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যকেন্দ্রিক। আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হলে এগুলোও আস্তে-ধীরে আসবে। যাতে আমাদের এখানে তাদের বিনিয়োগ বাড়ে।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস কাউন্সিল বৈঠক সূত্র ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ বৈঠক দু’দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী ৫০ বছরের জন্য ভিত্তি স্থাপন করবে। কারণ বাংলাদেশ একটি ‘সহায়তানির্ভর’ অর্থনীতি থেকে ‘বিনিয়োগচালিত’ অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্ব উল্লেখ করে তারা বলেন, প্রবৃদ্ধির যে মূল ক্ষেত্র রয়েছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে টেলিকম অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, ওষুধ, ব্লু-অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট খাতেও তারা এগিয়ে আসতে পারে। দেশটির বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৭টি হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের বিষয়টিও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও ডাইভারসিফিকেশন করারও চেষ্টা চলছে।
দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ২০২১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘বাংলাদেশ-ইউএস বিজনেস কাউন্সিল’ উদ্বোধন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরবে এ কাউন্সিল।
