রাশিয়ার অর্থনৈতিক খাতে জীবন্ত কিংবদন্তি এলভিরা সখিপজাদোভনা নাবিউলিনা। ঠাণ্ডা মাথায় কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিতে সিদ্ধহস্ত তিনি। একাধারে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক- সেন্ট্রাল ব্যাংক অব রাশার চেয়ারওম্যান, অর্থনীতিবিদ এবং প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নাবিউলিনা। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৯ সালের তালিকায় তিনি বিশ্বের ৫৩তম ক্ষমতাধর নারীও ছিলেন।
এলভিরার জন্ম ১৯৬৩ সালের ২৯ অক্টোবর, তৎকালীন সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রদেশ রিপাবলিক অব বাশকোরতোরস্তানের রাজধানী উফা’য়। দেশের সংকটকালে অর্থনীতি পরিচালনার গুরুভার কাঁধে তিনি বিচলিত হয়েছেন; এমন কথা তার নিন্দুকেরাও বলতে পারে না। এই কারণেই ইউক্রেন যুদ্ধকালীন রুশ অর্থনীতি পরিচালনার ভার নাবিউলিনার হাতে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।
এবার নিয়ে এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যেই দুই দুই বার সংকট কবলিত রুশ অর্থনীতির তরীকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার উত্তাল ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষার কাণ্ডারি হলেন তিনি। এ দায়িত্ব এতটাই চাপের যেখানে মুহূর্তের অসতর্কতা রাশিয়াকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরের অন্ধকার যুগে। তিনি কঠিন পরীক্ষায় জিততে ভালোবাসেন, আর সেজন্যই ইউক্রেনে যুদ্ধের সময়ে তার ওপর পুতিনের আস্থা সহজেই বোধগম্য।
এলভিরার সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জটি আসে ২০১৪ সালে। এ সময় ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলে নিলে মস্কোর ওপর ক্ষুব্ধ হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকা। বহুবিধ নিষেধাজ্ঞার ঝাঁপি তারা রাশিয়ার ওপর চাপিয়ে দেয়। এলভিরা তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে সবে এক বছর পার করেছেন। এমন সময়েই তাকে নিতে হয় রাশিয়ান মুদ্রা রুবলের দরপতনের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চগতির মূল্যস্ফীতি সামলানোর মতো গুরুতর ভার। বিচলিত না হয়ে নাবিউলিনা নিলেন সুদহার তীব্রভাবে বৃদ্ধির দৃঢ় সিদ্ধান্ত। এভাবে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তার হাত ধরে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণীর আধুনিক যুগে পা রাখে। তবে সিদ্ধান্তটি ছিল রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এতে রাশিয়ার অর্থনীতি অনেকটা মন্থর হয়ে পড়ে, কিন্তু একইসঙ্গে বাগে আনে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
রাশিয়ার অর্থনীতি জ্বালানি তেলের দর ওঠানামার ওপর নির্ভর করে। দাম কম থাকলে ছেদ পড়ে বিকাশে। এমন একটি দেশের অর্থনীতিকে প্রচলিত আর্থিক নিয়মনীতির শাসনে তিনি যেভাবে বেঁধেছেন তাতে ব্যাংকারদের জগতে উদীয়মান তারকাখ্যাতি পান।
