দুই বছর পর আবার হজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৯ জুলাই ঈদুল আযহা হওয়ার কথা রয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হজযাত্রীদের কোরবানি বাবদ ব্যয়ের অর্থ সৌদি ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা সৌদি সরকার অনুমোদিত এ ধরনের অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার জন্য রাজকীয় সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এ জন্য হজযাত্রীকে প্যাকেজ মূল্যের অতিরিক্ত ৮১০ সৌদি রিয়ালেরর সমপরিমাণ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা সঙ্গে নিতে হবে।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের পর হজের অংশ হিসেবে জামারায় (শয়তানকে পাথর মারার স্থান) পাথর মেরে হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। ১০ জিলহজ হজ শেষ হওয়ার পর থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পশু কোরবানি দেওয়া যায়। হাজিদের একটি অংশ নিজে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাই করার স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। একটি অংশ ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (আইডিবি) নির্দিষ্ট পরিমাণ রিয়াল জমা দিয়ে তাদের মাধ্যমে কোরবানি দেন।
ব্যাংকের বুথ ছাড়াও পোস্ট অফিস বা মসজিদুল হারামের পাশে ছোট ছোট টংঘরে আইডিবির বুথ রয়েছে, যেখানে অর্থ জমা দিলে তারা কোরবানির ব্যবস্থা নেয়। এ প্রক্রিয়ায় কোরবানি দিতে চাইলে তারা আপনাকে একটি কুপন দেবে। সেই কুপন দেখিয়ে হাজিরা তাঁদের নামে দেওয়া কোরবানির মাংস চাইলে দেখতে পারবেন। মক্কায় খাওয়ার জন্য চাইলে ওই কুপন দেখিয়ে ব্যাংকের হিমাগার থেকে কিছু মাংস আনাও যায়।
হজযাত্রীর বিমান ভাড়া, সৌদি আরবের বাড়ি ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, মুয়াল্লিম ফি, জমজমের পানি, খাবার খরচ এবং অন্যান্য ফি হিসেব করে ২০২২ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি প্যাকেজ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার এজেন্সিসমূহের জন্য একটি প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এ সর্বমোট ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০২০ সনের তুলনায় ১ লাখ ২ হাজার ৩৪০ টাকা বেশি। এ প্যাকেজের হজযাত্রীগণ পবিত্র মসজিদুল হারাম চত্বরের সীমানা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন।
প্যাকেজ-২ এ সর্বমোট ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০২০ সনের তুলনায় ১ লাখ ২ হাজার ১৫০ টাকা বেশি। ২০২০ সনে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকার তৃতীয় আরেকটি প্যাকেজ ছিল। এ বছর তৃতীয় প্যাকেজ রাখা হয়নি। এ প্যাকেজের হজযাত্রীগণ পবিত্র মসজিদুল হারাম চত্বরের সীমানা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন।
এছাড়া বেসরকারি প্যাকেজ এ হজযাত্রীর জন্য ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩০ টাকার প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ এজেন্সিগণ সরকারি ব্যবস্থপাপনার প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে।
