রংপুরের পীরগঞ্জে সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী পুলিশ সদস্যসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শানেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাস্টার ও তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৬ জনকে রাতেই জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। গত বুধবার শানেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়পুর মৌজায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে মিজানুর রহমান মাস্টার পাহাড়পুর মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি গভীর নলকূপ অপারেটর হিসেবে পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি একই মৌজায় নিজস্ব জমিতে কাজী পাড়া গ্রামের হামিদ সরদারের ছেলে রশিদ সরদার সেচ পাম্প স্থাপনে উপজেলা সেচ কমিটির নিকট আবেদন করে। সেচ কমিটি তদন্তের পর রশিদ মিয়াকে
গভীর নলকূপ স্থাপনে অনুমতি প্রদান করে। ওই ঘটনা মিজানুর রহমান জানতে পেরে অল্প দূরত্বে ২টি গভীর নলকূপ পরিচালনা সম্ভবপর নয় মর্মে রশিদ মিয়ার অনুমোদন বাতিলে সেচ কমিটির নিকট আবেদন করে। সেচ কমিটি রশিদ মিয়ার গভীর নলকূপ স্থাপনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে। দীর্ঘ কয়েক মাসে এই ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন রশিদ মিয়া। মহামান্য হাইকোর্ট (পিটিশন নং-৪৩২১) ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রশিদ মিয়ার সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগের নির্দেশ প্রদান
করেন। এরপর রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হয়।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম এ বিষয়ে পুলিশি সহায়তা চেয়ে ৮ এপ্রিল অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১১ মে বুধবার এসআই সুপদের নেতৃত্বে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন ও পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছালে মিজান মাস্টারের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যের সাথে ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে নারী পুলিশ সদস্য গোলেনুর ও জান্নাতুল আহত হন। এসময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা লাঠি চার্জ করলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এতে নায়েক ফারুক উজ জামান, কন্সটেবল তারেক, কামরুল, আরিফুলসহ ৬ পুলিশ এবং অপর পক্ষের ১২/১৫ জন আহত হয়। একসময়ে ঘটনা স্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এসময় পুলিশ ধল্লাকান্দী গ্রামের মেহের উদ্দিনের ছেলে ও শানেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাষ্টার (৩৬),তার স্ত্রী বিজলী (৩২), কন্যা মীম আক্তার (১৬), বোন বড় পাহাড়পুর গ্রামের মোনাজ উদ্দিনের স্ত্রী মিরা বেগম (৪০), প্রথমডাংগা গ্রামের লালমিয়ার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৫) ও নিকট আত্মীয় ধল্লাকান্দী গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী রুপিয়া বেগমকে (৬০) বুধবার রাতে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল দেশ রুপান্তরকে বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ পালনে পল্লী বিদ্যুতের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ঘটে। মিজান মাস্টার ও তার পরিবারের লোকজন হাইকোর্টের আদেশ পালনে বাধা প্রদান করে পুলিশের ওপর মারমুখী হয়ে উঠে।
পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান দেশ রুপান্তরকে বলেন, ১০ কার্য দিবসের মধ্যে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ পালনে ওই সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হই।
