আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চান ইউপি চেয়ারম্যানরা

আপডেট : ১৩ মে ২০২২, ০৭:১২ পিএম

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূঁইয়ার পদত্যাগ দাবি করেছেন উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানেরা।

শুক্রবার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান।

তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ওনার আত্মীয়স্বজন মাদক ব্যবসায় জড়িতসহ নানা অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আখাউড়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন, উত্তর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ধরখার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. সাফিক, মোগড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এমএ মতিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন ভূঁইয়া, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান নাজিম।

সংবাদ সম্মেলন অসুস্থতার জন্য উপস্থিত না থাকায় মনিয়ন্দ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসির সফিক আলেয়া ফোনে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানান।

ইউপি চেয়ারম্যানেরা তাদের বক্তব্যে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের জন্য তারা এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে পারছেন না। তাদের এলাকার জনগণের কোনো দাবি-দাওয়া পূরণ করতে পারছেন না। এতে জনগণ থেকে তারা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।

‘বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সকল কাজ নিজের ওয়ার্ড ছোট কুড়ি পাইকার নামে বরাদ্দ করেন। এডিপির টাকা তিনি (পিআইসি) করে উত্তোলন করেন। এতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্প কমিটিও বিধি মোতাবেক করা হয়নি।’ এসব প্রকল্পে কোনো কাজও করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূঁইয়ার বিষয়ে ওনার পক্ষে একমাত্র আমিই সবচেয়ে বেশি অবস্থান নিয়েছি। উনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর আমি বলেছিলাম আপনি যেহেতু চেয়ারম্যান হয়েছেন মন্ত্রী মহোদয় আছেন আপনি সমস্ত জায়গায় সমবণ্টন করে কাজ করেন। কিন্তু উনি সমবণ্টন করে কাজ করে নাই।

‘তিনি বিভিন্ন জায়গায় প্রকল্প কমিটি করে তার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে (পিআইসি) করে কাজ করেন। আমি বলছি পিআইসি করে কাজ কইরেন না। এগুলো করে কাজ করলে অনিয়ম হবে। আপনার মতো লোক অনিয়ম করলে শুনতে খারাপ দেখাবে। তিনি পিআইসি করে গত তিন বছরে ২০ টি রাস্তা দেখিয়েছেন ছোট কুড়িপাইকা। কোন গ্রামে কি ২০টি রাস্তা থাকে?’

উপজেলা চেয়ারম্যানের অনিয়ম দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া এসব মৌখিক অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করে থাকি তাহলে তদন্ত করে তার সত্যতা পাইলে আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় আমি তা মাথা পেতে নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত