বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক শওকত ওসমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ১৯৯৮ সালের ১৪ মে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একাধারে নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, রাজনৈতিক লেখা ও শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনা করেছেন।
শওকত ওসমানের জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯১৭ পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। তার প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। তিনি ১৯৩৩ সালে কলকাতার আলিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৩৬ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ১৯৩৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ এবং ১৯৪১ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৪১ সালে তিনি গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে লেকচারার পদে নিযুক্ত হন। পরে ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ অব কমার্সে যোগ দেন। ১৯৫৯ সাল থেকে ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯৭২ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান।
চাকরিজীবনের প্রথম দিকে স্বল্প সময় তিনি কৃষক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই তার মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। বিদেশি ভাষার অনেক উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটক তিনি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ‘জননী’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’, ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’ তার উল্লেখযোগ্য রচনা। ‘জননী’ ও ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাস দুটি তাকে খ্যাতিমান করেছে। ‘জননী’ উপন্যাসে গ্রাম ও নগর জীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার এবং একুশে পদকসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
