লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতিতে বেড়েছে আয় বৈষম্য

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১০:১৮ পিএম

অর্থনীতির প্রাথমিক পাঠে মুদ্রাস্ফীতির সুবিধা-অসুবিধা পড়তে গিয়ে জানতে পারি যে, স্বল্পমাত্রার মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতিতে সঞ্জীবনী সুরার কাজ করে; ব্যবসায়ীদের লাভ হয়, বিনিয়োগ বাড়ে, অলস সম্পদের বাঞ্ছিত ব্যবহার সম্ভব হয়, কর্ম সৃজন হয়, মোটের ওপর সব অংশীজনের লাভ হয়, অর্থাৎ সবার জন্য জয়জয়কার অবস্থা। তবে এর মাত্রা বেশি হলে সীমিত আয়ের মানুষজনের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়; তখন তাদের কম খেয়ে-পরে সে ঘাটতি সমন্বয় করতে হয়। আর যারা অর্থ ধার করে তাদের বেশ সুবিধা হয়; উত্তর কালের কমদামি অর্থ দিয়ে পূর্ব কালে নেওয়া বেশি দামি অর্থের ঋণ অভিহিত মূল্যে পরিশোধ করা যায়। তখন ভাবতাম তাহলে তো মুদ্রাস্ফীতি গরিবের জন্য কল্যাণকর; ধার-কর্জ তো গরিবরাই করে থাকে। কিন্তু এখন দেখছি প্রকৃত ঘটনা বরং উল্টো। গরিবরা ধার করে যৎসামান্য, বড়জোর হাজারের অঙ্কে, যা ফেরত দেওয়ার তাগিদ কড়ায়-গন্ডায়, আর ধনীরাও ধার করে হাজারের অঙ্কে, তবে লেজুড়ে কোটি যুক্ত থাকে। আর সে অর্থের একটা অংশ আদায় হয় না, আর অনেক ছাড়ের পর অতি বিলম্বে যতটুকু আদায় হয়, ক্রমপুঞ্জিত মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করা হলে তার মূল্যমান দাঁড়ায় আদায় খরচের প্রায় কাছাকাছি।

কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বে অসহনীয় মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। মহামারীতে চলাচল সীমিত করা এবং লকডাউন দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তাতে সব সেক্টরে, বিশেষত কলকারখানায় উৎপাদন কমে যায়, আর সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্বাভাবিক ছেদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে মানুষের ভোগ তো আর বন্ধ করা যায় না। সেটা সমুন্নত রাখতে নানা প্যাকেজের মাধ্যমে উদারভাবে দেওয়া হয় প্রণোদনা। ফলে পণ্যের দাম বাড়ছিল। মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাপকভাবে শুরু হয়ে যায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মকান্ড। ১৯১৮-২১ সালের স্প্যানিশ ফ্লু উত্তর বিশ্বে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে একই রকম জোয়ার এসেছিল। এ-কারণে অনেক অর্থনীতিবিদ বিশ দশকের বর্তমান পুনরুদ্ধার পর্বকে গর্জনশীল চল্লিশার আদলে গর্জনশীল বিংশতি (Roaring Twenties) বলে অভিহিত করে আসছিলেন। এতে বিশ্বে জ্বালানিসহ খাদ্য ও কাঁচামালের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ফলে সে সব পণ্যের দাম বেড়ে যেতে থাকে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ-বছরের শেষের দিকে একটা স্থিতাবস্থা তৈরি হয়ে যেত বলে অনেকের ধারণা ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ উদ্বৃত্ত গমের উৎস রাশিয়া এবং ইউক্রেন। গ্যাস, জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল ও সারের বড় জোগানদাত্রী এই অঞ্চল। যুদ্ধ এই বহুপ্রসূ অঞ্চলকে করে ফেলেছে অনধিগম্য। তাছাড়া যুদ্ধে ইউক্রেনে উৎপাদনও কমে যাবে। এতে নতুন করে শুরু হয়েছে সরবরাহ অভিঘাত। ফলে সব জায়গায় বেড়ে গেছে পণ্যের মূল্য। সেই সঙ্গে বেড়ে গিয়েছে পরিবহন ঝুঁকি, খরচ ও বীমা ব্যয় এবং নিষেধাজ্ঞাজনিত নানা জটিলতা।

একদিকে চাহিদার ব্যাপক প্রবৃদ্ধি এবং অন্য দিকে সরবরাহের ক্ষেত্র সংকোচন এই দ্বৈত প্রতিকূল অবস্থার চাপে এখন বিশ্বে শুরু হয়ে গিয়েছে নিশ্চল মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনীতিবিদরা stagnation Ges inflation এর সংকর সাধন করে যার নামকরণ করেছেন stagflation’। এর মানে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে ঠিকই, কিন্তু বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে থাকবে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নেতিবাচকও হয়ে যেতে পারে।  কারণ, মুদ্রাস্ফীতি বাগে আনার জন্য জাতীয় সরকারগুলো সুদ হার বাড়ানোতে বিনিয়োগ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একে তো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, তার ওপর সুদজনিত বর্ধিত খরচ। ফলে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হচ্ছে না, হচ্ছে না কর্মসৃজন ও জনমানুষের আয়বর্ধন। অর্থনীতিবিদদের কাছে এটা একটা দুর্বোধ্য পরিস্থিতি যা কোনো তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।

এই মুহূর্তে বিশ্বের দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলেছে। জানুয়ারি মাসে মার্কিন মুলুকে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৫ শতাংশ, মার্চে বেড়ে সেটা দাঁড়িয়েছে ৮.৫ শতাংশ। বিগত ৪০ বছরের মধ্যে এটা সর্বোচ্চ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কর্তৃক প্রণীত খাদ্য মূল্য সূচক বর্তমানের ১৫৯ পয়েন্ট নিয়ে বিগত ৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। এর মধ্যে শুধু বিগত মার্চ মাসেই বেড়েছে ২০ পয়েন্ট। বাংলাদেশে বিগত মার্চ মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়ায় ৬.২২ শতাংশ, যেটা আগের মাসে ছিল ৬.১৭ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৩৪ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত অন্যান্য পণ্যের মূল্যতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.০৪ শতাংশ। বেসরকারি থিংকট্যাংক সানেমের (South Asian Network on Economic Modelling) হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ আরও বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নিষেধাজ্ঞার যেসব হালহকিকত চলছে, তাতে অর্থনীতিবিদের ধারণা যে, আগামী বছরের আগে এই মুদ্রাস্ফীতি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই প্রেক্ষাপটে আইএমএফ বর্তমান বছরের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৪.১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.৩ শতাংশে অবনমন করেছে। 

অনেকে বর্তমান বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে বিগত শতাব্দীর সত্তর ও আশির দশকে আরবদের জ্বালানি তেল সরবরাহ নিষেধাজ্ঞায় সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী সুপার ইনফ্লেশনের সঙ্গে তুলনা করতে চান। বিশ্বে ১৯৭০ সালে মুদ্রাস্ফীতি ছিল গড়পড়তা ৫.৫ শতাংশ। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞার ফলে তা বাড়তে বাড়তে ১৯৮০ সালে এসে ১৪ শতাংশে উপনীত হয়। ফলে বিশ্ব পুরো একটা দশক ধরে মন্দার কবলে ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্য তখনকার চেয়ে ভিন্ন; বিশ্ব এখন আর আগের মতো শুধুমাত্র জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল নয়। তাছাড়া এ জাতীয় মন্দা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় সরকার ও বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষালাভ হয়েছে। অধিকন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের ম্যান্ডেট পেয়ে যাচ্ছে। তারা সেভাবে কাজও করে যাচ্ছে। কাজেই  অর্থনীতিবিদদের অভিমত যে, বর্তমান আর্থিক সংকট হয়তো সত্তরের দশকের মতো ততটা তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি কতদূর যাবে এবং এর উত্তরণের পথ কী হবে, সে সম্পর্কে তারা একমতও হতে পারছেন না।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণ, প্রকৃতি ও প্রতিকার যাই হোক না কেন, যতদিন অর্থনীতিতে এটা থাকবে, ততদিন এর করাল গ্রাস থেকে মানুষকে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এর যেমন একটা মানবিক ও সামাজিক দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক দিক। বর্তমান উন্নয়ন মডেলে দেশে আয় বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি আয় বৈষম্যকে আরও তীব্রতর করে তোলে; এটা আয় বণ্টন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে গরিবের হাত থেকে ধনীর পকেটে একপেশে অর্থপ্রবাহ তৈরি করে। এতে মানবিক ও সামাজিক সংকট এবং অস্থিরতা তৈরি হয়, যেটা কখনই কাম্য নয়; টেকসই উন্নয়ন অভিলক্ষ্যের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ নয়। তাছাড়া, এই প্রক্রিয়া সংবিধানে নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসার মতো মৌলিক মানবিক প্রয়োজন মেটানোর শর্ত পূরণ করার যে প্রতিশ্রুতি আছে, তা খেলাপের ক্ষেত্র তৈরি করে। এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা। অধিকন্তু, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বৈষম্যমূলক সমাজ দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হতে পারে না; স্বল্প আয়ের জনসমষ্টিই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোক্তা, বৈষম্যের জাঁতাকলে ভোক্তাই যদি নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে, তবে উৎপাদনকারীদেরও মন্দার কবলে পড়ে ভোক্তাদের পশ্চাদ্ধাবন অবশ্যম্ভাবী।  

বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি, বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব প্রান্তিক জনসমষ্টির মধ্যে অনেক বেশি। ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে এর তীব্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে। সানেমের এক জরিপে দেখা যায় যে, গ্রাম ও শহরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের আয়ের যথাক্রমে ৬৫.৩৬ ও ৬১.৩১ শতাংশ খাদ্যদ্রব্যের জন্য ব্যয় করে। অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী এই হার যথাক্রমে ৫৮.৫৪ এবং ৪৫.১৭ শতাংশ। এর অর্থ গরিব মানুষই মূল্যস্ফীতির কশাঘাতে বেশি ভুক্তভোগী হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০.৫ শতাংশ। এরপর কভিডে অনেক মানুষ কর্ম হারিয়েছে, সঞ্চয় খুইয়ে অনেকে জীবন বাঁচিয়েছে, অনেকে আবার কর্মে প্রত্যাবর্তন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক নব্য দরিদ্র শ্রেণি। এখন আবার মুদ্রাস্ফীতিতে নাকাল হচ্ছে প্রান্তিক মানুষ। এর হাত থেকে পরিত্রাণ না পেলে এদের একটা অংশের নাম নতুন করে দরিদ্রের খাতায় উঠে যাবে। 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকার অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীতে ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চাল ও গমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি, দক্ষ বাজার পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেশন বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মসৃজন এবং কৃষি খাতে বিশেষভাবে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে টেনে নিচে নামাতে সাহায্য করে। অনুৎপাদনশীল ব্যয়, বিশেষ করে যে সব প্রকল্প তাৎক্ষণিক উৎপাদন বাড়াবে না, সে সব ব্যয় ও প্রকল্প কাটছাঁট করে ফেলতে পারে। অনুৎপাদনশীল ব্যয় মূল্যস্ফীতির আগুনে ঘৃত ঢালে। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় সৈনিক ও যুদ্ধে নিয়োজিত অন্যান্য লোকবলের জন্য উদার হস্তে নগদ অর্থ বণ্টন করা হয়, যা খাদ্যশস্যের মূল্যকে আকাশচুম্বী করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল।

আগামী বাজেটে বিভিন্ন খাত যেমন- সার, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ, রেমিট্যান্স, রপ্তানি প্রভৃতি সেক্টরের মধ্যে ভর্তুকি ও প্রণোদনার অংশ পেতে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। কিন্তু খাদ্যশস্য উৎপাদনে ভূমিকার কথা বিবেচনায় কৃষিতে ভর্তুকির গুরুত্ব সবার আগে রাখতে হবে। তবে শিল্পের উৎপাদন যাতে সমুন্নত থাকে, সে বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সরকারকে সঠিকভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। সেদিন দেখলাম যে, আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ২৮২৪ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে; এক বছরে আয় বেড়েছে ২৩৩ ডলার। আমজনতা পর্যায়ে যদি এই অর্থ পকেটে আসত, তবে এক লাফে লিটারপ্রতি ৩৮ টাকা বাড়লেও তেল কিনতে তাদের তেমন কষ্ট হতো না।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার ইতিমধ্যে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এসব নির্দেশ কতটুকু বার্তা পৌঁছাবে, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। যেদিন অর্থমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করার কথা বললেন, সেদিনই পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, শ্রম প্রতিমন্ত্রী ৪৩ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল নিয়ে জেনেভায় যাচ্ছেন (প্রথম আলো, মে ১২, ২০২২)। পত্রিকার ভাষ্য, ৫ থেকে ১০  জন ওই দলে থাকলেই যথেষ্ট ছিল।

মহামারীর মধ্যেও অর্থনীতিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সবাই পুলকিত বোধ করছেন। খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বৈষম্যমূলক প্রবৃদ্ধির চেয়ে জনকল্যাণের প্রশ্ন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ঋগে¦দে উল্লিখিত অন্যতম প্রবচন, ‘বহুজন সুখায়ে, বহুজন হিতায়ে’ বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম স্তম্ভ। আক্কেলমন্ত চাণক্য ও মহামতি বুদ্ধও এই নীতি অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মানুষ আশা করে সরকার বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে প্রবৃদ্ধির ওপর জনকল্যাণকে স্থান দেবে।

লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত