আবৃত্তি, গণসংগীত ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আসামের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক অনুষ্ঠান হয়।
১৯৬১ সালের ১৯ মে আসামের শিলচরে বাংলাকে রাজ্যভাষা করার দাবিতে আন্দোলনে শহীদ হন ১১ জন বাঙালি। দিনটি স্মরণ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ অনুষ্ঠান করে এবং ভাষা আন্দোলন স্মৃতি রক্ষা পরিষদ শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তিতাস আবৃত্তি সংগঠন। এতে অংশ নেয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শ্রুতি আবৃত্তি সংগঠন।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আসামের বাঙালি-অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় অসমিয়ার বদলে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন। এর মধ্যে রয়েছেন কমলা ভট্টাচার্য। তিনি সম্ভবত পুরো পৃথিবীতে একমাত্র নারী ভাষা শহীদ।’
আরও বক্তব্য দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ। সভাপতিত্ব করেন কাজী মিজানুর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন মানজার চৌধুরী সুইট। আলোচনা পর্ব শুরুর আগে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের গীতিকার আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে এবং ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা, স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, ভিন্নধারা ও পঞ্চ ভাস্কর। একক সংগীত পরিবেশন করেন আলক দাস গুপ্ত, মাহবুব রিয়াজ, আরিফ রহমান ও আবিদা রহমান সেতু।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি মহিলা কলেজের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় আসামের ভাষা শহীদদের। কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান হয়। এতে অংশ নেয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আসা শ্রুতি আবৃত্তি সংগঠনের ১৩ সদস্যের একটি দল।
অনুষ্ঠানে তিতাস আবৃত্তি সংগঠন ও আগরতলার শ্রুতি আবৃত্তি সংগঠনের সদস্যরা একক এবং বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এ. এস. এম. শফিকুল্লাহ, উপাধ্যক্ষ ড. মো. ইব্রাহিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, সহসভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, তিতাস সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সহসভাপতি ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ, নোঙর সভাপতি শামীম আহমেদ, আবরণী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক হাবিবুর রহমান পারভেজ, সোনালি সকাল পরিচালক ফাহিম মুনতাসির প্রমুখ।
