তিন লাখ টন গম দেবে ভারত

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ০২:২৪ এএম

বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গম রপ্তানি করবে প্রতিবেশী দেশ ভারত। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাণিজ্যিকভাবে গম বিক্রি বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশকে গম দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতের কৃষকদের সংগঠন জাতীয় কৃষক সংগ্রহ প্রক্রিয়াকরণ এবং খুচরা বিক্রেতা সমবায় ফেডারেশন (এনএসিওএফ)। সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে তিন লাখ টন গম দেবে দেশটি।

বাংলাদেশের আমদানি করা গমের একটি বড় অংশ আসত রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। কিন্তু দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সরকারি-বেসরকারিভাবে ভারত থেকেই গম আমদানি করা হচ্ছিল। তুলনামূলক কম সময় এবং খরচে আমদানির প্রায় ৬৩ শতাংশ আসত দেশটি থেকে। তীব্র দাবদাহে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর ফলে নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ মে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত।

ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। ১৬ মে থেকে দেশের পাইকারি বাজারে দাম বাড়ে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। প্রতি কেজিতে দাম বাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ টাকা। খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে আরও বেশি। দাম বেড়েছে আটা, ময়দা, বেকারি পণ্য ও রেস্তোরাঁর রুটি পরটারও।

ভারতের গম রপ্তানি বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুধুমাত্র পুরনো এলসির গম দেশে আসে। এখন সরকার টু সরকার নতুন করে গম আসার সুযোগ তৈরি হলো।

এমন অবস্থায় গম রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতের কৃষকদের সংগঠন জাতীয় কৃষক সংগ্রহ প্রক্রিয়াকরণ এবং খুচরা বিক্রেতা সমবায় ফেডারেশন (এনএসিওএফ)। সংস্থাটির ওয়ার্কিং চেয়ারম্যান রাম ইকবাল সিংহ এক চিঠিতে বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, বর্তমানে সরকার ভারতীয় মিলিং গম রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং জিটুজি পদ্ধতিতে তিন লাখ টন গম রপ্তানি করতে সম্মতি পেয়েছি।

মানুষের খাওয়ার উপযোগী, বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বিষ এবং বিষাক্ত আগাছা বীজ থেকে মুক্ত, পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে মুক্ত, টিল্লেটিয়া ইন্ডিকা (কারনাল বান্ট) মুক্ত গম রপ্তানি করবে ভারত।

ভারত থেকে গম আমদানির প্রক্রিয়া ও দাম নির্ধারণে ২২ মে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠিয়েছে। 

১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিন সমৃদ্ধ তিন লাখ টন গমের মধ্যে বাল্ক আকারে দুই লাখ টন গম খালাস হবে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি সাইলোতে। বাকি এক লাখ টন গম আসবে ওভেন প্রোপাইলিন ব্যাগে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টন গম খুলনার মোংলা বন্দর হয়ে, বাকি ৫০ হাজার টন ট্রেনে। 

দেশের জরুরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি বছর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে ৫-৬ লাখ টন গম আমদানি করে থাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে ভারতের কৃষকদের সংগঠন জাতীয় কৃষক সংগ্রহ প্রক্রিয়াকরণ এবং খুচরা বিক্রেতা সমবায় ফেডারেশনের (এনএসিওএফ) কাছ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জিটুজি পদ্ধতিতে এক লাখ টন নন-বাসমতি চাল আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে নিয়মিত গম রপ্তানি করছে ভারত। রপ্তানি বন্ধের আগে ভারতের গম রপ্তানির ৫৭ শতাংশের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। এর বাইরে শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও নেপালে গম রপ্তানি করে দেশটি।

বাংলাদেশে বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এই চাহিদার ৬৫ থেকে ৬৭ লাখ টন আমদানি করতে হয়। বড় শিল্প গ্রুপগুলো যাদের নিজস্ব আটা-ময়দার কারখানা আছে, তারা সরাসরি আমদানি করে। আবার গম এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রিও করে বড় শিল্প গ্রুপগুলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত