গাজীপুরের শ্রীপুরে বিরল প্রজাতির এক লজ্জাবতী বানর ধরা পড়েছে। গাছের আম পাড়তে গিয়ে বানরটি চোখে পড়ে এক শিশুর। পরে কয়েক শিশু মিলে কাপড় দিয়ে ঝাপটে ধরে ফেলে লজ্জাবতী বানরটিকে।
শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর করস্থান এলাকার খাসপাড়া গ্রামে শুক্রবার বিকেলে ধরা পরে লজ্জাবতী বানরটি। পরে শনিবার বন বিভাগের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বন্য প্রাণী অপরাধ দমনের একটি দল লজ্জাবতী বানরটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা লিজার নির্দেশনায় জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট সাদেকুল ইসলাম লজ্জাবতী বানরটি (উদ্ধার) বুঝে নেন।
স্থানীয়রা জানান, পৌর করস্থানের পাশে রাজীবের বাড়ির একটি আম গাছ থেকে কিছু পাকা আম পাড়তে এক নারী গাছে তুলে দেন শিশু রাজনকে। গাছে উঠে আম পাড়ার সময় রাজনের চোখে পড়ে এ লজ্জাবতী বানরটি। এ সময় শিশু রাজন ভয়ে গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরে আবারও গাছে উঠে বানরটি দেখতে পেলে আরও কয়েক শিশু মিলে কাপড় দিয়ে ঝাপটে ধরে ফেলে ধীর গতির লজ্জাবতী বানরটিকে।
লজ্জাবতী বানরটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে শিশু রাজন। বাড়ির একটি লোহার খাঁচায় আটকে রাখে। খবর পেয়ে এলাকার মানুষ অচেনা এ প্রাণীকে দেখতে তাদের বাড়িতে ভিড় করেন।
রাজনের বাবা আবুল হোসেন জানান, আমার ছেলে আম পাড়তে গিয়ে গাছে অদ্ভুত এ প্রাণীটি দেখতে পায়। পরে অন্য শিশুদের সাথে নিয়ে প্রাণীটিকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে জানতে পারি এটি দুর্লভ লজ্জাবতী বানর।
বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের জুনিয়র স্কাউট সাদেকুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে লজ্জাবতী বানর থাকার রেকর্ড নাই। কোনো পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে এ অঞ্চলে এটি আসতে পারে।
বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা দেশ রূপান্তরকে ফোনে জানান, আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের একটি উদ্ধার টিম যাচ্ছে লজ্জাবতী বানরটি উদ্ধার করতে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
