কিসের বোর্ড, কিসের বাক্স জানেন না কৃষক

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ১২:১৭ এএম

কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য নীলফামারীতে স্থাপিত কৃষি আবহাওয়া প্রযুক্তি কৃষকদের কোনো কাজে আসেনি। জেলায় ৬০টি ইউপি ভবনে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় রেইন গজ মিটার এবং তথ্য বোর্ডগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থাপনের চার বছরেও এর কার্যক্রম স¤পর্কে কিছুই জানতে পারেননি কৃষকরা। ২০১৮ সাল থেকে স্থাপন করা হয় এসব বোর্ড ও বাক্স।

নীলফামারী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি বিভাগও এ বিষয়ে অবগত নয়। তাদের ভাষ্য, ঢাকা থেকে লোক এসে এগুলো স্থাপন করে যায়। এ সম্পর্কে কোনো ফাইল বা তথ্য আমাদের নেই।

একটি সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬০টি ইউনিয়নে এই যন্ত্রের মাধ্যমে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, ঝড়ের পূর্বাভাস, আলোকঘণ্টাসহ ১০টি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তা প্রকাশের ব্যবস্থা রাখা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও কর্মকর্তাদের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা। এ জন্য প্রকল্পভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে রেইন গজ মিটার ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানো হয়েছিল। আর আবহাওয়ার তথ্য হালনাগাদ করার জন্য তথ্য বোর্ড স্থাপন করা হয় ইউপি পরিষদ চত্বরের দর্শনীয় স্থানে। নিয়ম অনুযায়ী, ৬ দিনের আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য এই বোর্ডে আপডেট থাকার কথা। কিন্তু বিভিন্ন ইউপিতে স্থাপন করা এসব বোর্ডে তথ্য কবে হালনাগাদ করা হয়েছে, সে স¤পর্কে কেউ কিছু জানেন না।

সূত্রমতে, ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্যপদ্ধতি উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৪ হাজার ৫১টি ইউপিতে অটোমেটিক রেইন গজ এবং কৃষি আবহাওয়া ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করে। এই প্রকল্পের সময়সীমা ২০২১ সালের জুনে শেষ হয়ে যায়। এখন এসব যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করার বর্ধিত প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

জেলার ছয় উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও বোর্ড জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। আবার কোথাও সংখ্যা গণনার ঘুঁটিগুলো অকেজো। আবার কোথাও বোর্ডগুলো নামিয়ে ইউনিয়ন সচিবের ঘরে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও শুধু বোর্ড রয়েছে, নেই ভেতরের যন্ত্রাংশ।

ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ঘুরে দেখা গেছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বার্তার বোর্ডটি রয়েছে নামেমাত্র। সঠিক তদারকির অভাবে সরঞ্জামাদি অকেজো হয়ে পড়েছে। বোর্ডটিতে নেই যোগাযোগ করার জন্য দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার ফোন নম্বর। স্থানীয় কৃষকরাও এর সুফল স¤পর্কে অবগত নন।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরশ^র তিস্তা চর এলাকার কৃষক আবদুস সালাম বলেন, ‘অনেক দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে একটি বাক্স দেখেছি। কিন্তু সেটি কিসের বাক্স, আমরা জানি না।’ বেশিরভাগ ইউনিয়ন ঘুরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস স¤পর্কে কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় একই রকম উত্তর মিলেছে।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নীতকরণের জন্য একটি প্রকল্প থেকে বোর্ডগুলো দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে লোকজন এগুলোর মনিটরিং করে থাকেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত