নাটোরের বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারা রেলক্রসিংয়ে তিনজন গেটম্যান থাকলেও নেই কোনো গেট। এমনকি নেই গেটম্যানদের থাকার ঘরও। এতে ট্রেন চলাচলের সময় ক্রসিং নিয়ন্ত্রণ করা যেমন কষ্টসাধ্য হচ্ছে, তেমনি থাকার ঘর না থাকায় রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় তিন গেটম্যানকে। নিয়োগের প্রায় পাঁচ বছরেও গেট ও থাকার ঘর নির্মাণ না করায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
জানা যায়, আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশন থেকে পার্বতীপুর অভিমুখে বাগাতিপাড়া অংশে ৫টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে মালঞ্চি লেভেল ক্রসিংয়ে আগে থেকেই গেটম্যান, গেট ও তাদের থাকার ঘর ছিল। ইয়াছিনপুর রেলগেটে ট্রেনের ধাক্কায় ভটভটির দুর্ঘটনায় নববধূসহ চারজন নিহতের পর ২০১৮ সালে স্বরূপপুর, ইয়াছিনপুর ও বড়পুকুরিয়া রেলগেটে গেটম্যান নিয়োগের পাশাপাশি গেট ও তাদের থাকার ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু একই সময় ঠেঙ্গামারা রেলগেটে তিনজন গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও গেট ও তাদের থাকার ঘরের ব্যবস্থা করা হয়নি। গেট না থাকায় ট্রেন আসার সময় রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও গরু-ছাগল থামাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় গেটম্যানদের। এ ছাড়া ঘর না থাকায় তাদের রেলগেট থেকে একটু দূরে ভাড়াবাড়িতে থাকতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকাবাসীর সহায়তায় কয়েকটি বাঁশের খুঁটির ওপর টিন দিয়ে একটি টংয়ের মতো তৈরি করা হয়েছে। তাতে কোনো বেড়া নেই। টিনের ছাউনির নিচে বাঁশের তৈরি একটি মাচা রয়েছে। এটাই তাদের ডিউটি ঘর।
গেটম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই গেট নিয়ে অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখানে ডিউটি করতে গিয়ে শীতের মধ্যেও সারারাত খোলা স্থানে বসে থাকতে হয়। এ ছাড়া ঝড়-বৃষ্টির দিনে সীমাহীন কষ্ট করতে হয়।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘ওই গেট সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
