বাংলাদেশের প্রতি ফের যে আহবান জানাল চীন

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ০৮:০৪ পিএম

ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত কোয়াড জোটে যোগ না দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে আহবান জানানোর এক বছর পর চীন বাংলাদেশকে ফের স্বাধীন থাকা এবং ঠাণ্ডা যুদ্ধের মানসিকতা ও ব্লকের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করার আহবান জানিয়েছে।

গত বুধবার চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামানকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মহাসচিব লিউ জিনসং বলেন, ‘চীন বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ সহ এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের নিজেদের দেশ ও অঞ্চলের মৌলিক স্বার্থের কথা মাথায় রাখবে, স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখবে, ঠাণ্ডা যুদ্ধের মানসিকতা এবং ব্লক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে‘।

তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতাকে রক্ষা করা এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য বহু কষ্টে অর্জিত পরিবেশ রক্ষা করা’।

গত বুধবার ভারতে এক বৈঠকের সময় লিউ জিনসং এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস। হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানোনো হয়েছে।

এর আগে গত বছরের মে মাসে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে কোয়াড অ্যালায়েন্সে যোগ না দিতে বলে বিতর্কের মুখে পড়েন।

লি ঢাকায় বলেছিলেন, ‘অবশ্যই, চার দেশের এই ছোট ক্লাবে (কোয়াড) অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশের পক্ষে ভাল হবে না, কারণ এতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যথেষ্ট ক্ষতি হবে’।

লি’র মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ’খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ’আক্রমনাত্মক’।

মোমেন সে সময় বলেছিলেন, ’আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা নিজেরাই আমাদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করি’।

তিনি আরও বলেন, আমরা চীনের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।

চীন কোয়াডকে এশিয়ান ন্যাটো হিসাবে দেখে থাকে এবং এর উত্থান রোধ করার লক্ষ্যে বরাবরই এর বিরোধিতা করে আসছে।

মাহবুব উজ জামানের সঙ্গে বৈঠকে লিউ জিনসং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সাম্প্রতিক বক্তৃতাকেও আক্রমণ করেন। ওই বক্তৃতায় ব্লিংঙ্কেন বলেছিলেন যে, চীন বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা উল্টে দিতে চায় এবং তা করার জন্য নিজের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক এবং প্রযুক্তিগত শক্তি বাড়িয়ে চলেছে’।

গত বৃহস্পতিবার জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইডেন প্রশাসনের চীন নীতি নিয়ে বক্তৃতার সময় ব্লিঙ্কেন চীনকে ’আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জন্য সবচেয়ে গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ’বিনিয়োগ, ঐক্য, প্রতিযোগিতা করার’ কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তবে, কমিউনিস্ট দেশের সঙ্গে সংঘাত বা নতুন স্নায়ুযুদ্ধ এড়াতে চায়।

লিউ বলেন, চীনের বিষয়ে ব্লিঙ্কেন যে ’তিন-দফা দৃষ্টিভঙ্গি’ উত্থাপন করেছেন, তাতে ’বিনিয়োগ, জোট এবং প্রতিযোগিতা’র কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এতে বিশ্ব সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গির বিচ্যুতি এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের গুরুতর বিচ্যুতি প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ’মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল অকাস (AUKUS), কোয়াড গ্রুপিং এবং সর্বশেষ ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্কের পেছনে যুক্তি হল মার্কিন ’কেন্দ্রিকতা’ এবং ’ব্যতিক্রমবাদ’। ফলে, এটি কেবল নিজের জন্যই অসম্মান বয়ে আনবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোকে ক্ষুন্ন করবে এবং দুই ব্লকের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি করবে‘।

লিউ বলেন, ‘একক আধিপত্য কোনও সমর্থন পাবে না, ব্লক সংঘর্ষের কোনও ভবিষ্যৎ নেই, এবং ’উঁচু দেয়াল সহ ছোট আঙ্গিনা’ তৈরি করা এবং সাপ্লাই চেইন থেকে বিচ্ছিন্ন করা বা কেটে ফেলা কারো জন্যই ভালো হবে না’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত