বাউফলের পূর্ব ইন্দ্রকূল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা

শিক্ষার্থী কাগজে আছে প্রতিষ্ঠানে নেই

আপডেট : ০৫ জুন ২০২২, ১১:৪২ পিএম

প্রতিষ্ঠানটিতে ১৮ বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী আসে না। তবে এটির শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা কাগজে-কলমে ‘দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আছে’ দেখিয়ে বছরের পর বছর তুলে আসছেন বেতনভাতা। ৯ শিক্ষক ও ৪ সহায়কসহ ১৩ জন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেড় যুগ ধরে উত্তোলন করছেন সরকারি এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার)।

প্রতিষ্ঠানটির নাম পূর্ব ইন্দ্রকূল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা। ১৯৯৪ সালে পটুয়াখালীর বাউফলে এটি প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল মোতালেব নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ওই মাদ্রাসার। পরে ২০০৪ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। গত বুধবার দুপুরের পর গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসাটি কাঁচা ভিতের ওপর টিনশেডের এক কক্ষের লম্বা ও ছোট অন্য একটি কক্ষ নিয়ে দাঁড়িয়ে। ভেতরে ভাঙাচোরা কয়েকটি বেঞ্চ আর সামনে এক চিলতে মাঠ আছে। তবে কোনো জনমানুষ নেই। সাংবাদিক এসেছে শুনে শূন্য মাদ্রাসাটিতে চলে আসেন প্রধান শিক্ষক (সুপার) ও সভাপতি। সম্পর্কে যারা শ^শুর-পুত্রবধূ। তারা এসে দাবি করেন, ‘আজ আগেভাগে ছুটি দিয়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা চলে গেছে।’

কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা ঠিক সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসাটিতে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক এসেছেন। যাদের মধ্যে দাখিলের দুজন এবং ইবতেদায়ির তিনজন। তবে কোনো শিক্ষার্থীর ছায়াও নেই। হাজির হওয়া শিক্ষকরা চক, ডাস্টার, ব্ল্যাকবোর্ড, ছাত্রী হাজিরা খাতাসহ কোনো শিক্ষা উপকরণ দেখাতে পারেননি।

শিক্ষকদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইবতেদায়ি ও দাখিল মাদ্রাসা এটি। প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী প্রতি মাসে এমপিওর ২ লাখ ৮ হাজার টাকা বেতনভাতা তুলে আসছেন। শিক্ষকদের মধ্যে ইবতেদায়িতে চার ও দাখিলে পাঁচজন চাকরি করছেন। এছাড়া একজন করে অফিস সহকারী, আয়া, নৈশপ্রহরী ও দপ্তরি প্রতি মাসে তুলছেন এমপিও। শিক্ষকরা এদিন আরও স্বীকার করেন, ছুটির দিন ছাড়া কাগজে-কলমে প্রতিদিন ২০-৩০ শিক্ষার্থী হাজির দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

আইরিন বেগম নামে মাদ্রাসাটির একজন শিক্ষক ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর শেষ উপস্থিতি স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু তিনি বেতন তুলছেন প্রতি মাসে। মুঠোফোনে কথা হলে আইরিন বেগম বলেন, ‘মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান তাকে বলেছেন, বিদ্যালয়ের একটি খুঁটি থাকলেও সে নাকি বেতন পাবেন।’

এ বিষয়ে ওই চেয়ারম্যান প্রতিবাদ করে বলেন, ‘ওনাদের তো আমি চিনিও না। আর ওই মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থীও নেই। অযথা বেতন উত্তোলন করে খাচ্ছেন শিক্ষকরা।’

মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক (সুপার) মাহফুজা বেগম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আগে অনেক ছাত্রী ছিল। ২০০৯ সালের পর শিক্ষকদের মাঝে ঝামেলা হওয়ায় এখন শিক্ষার্থী একেবারে নেই। দূরের কিছু শিক্ষার্থী এখান থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে মাদ্রাসাটি টিকিয়ে রেখেছি।’

বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘শিক্ষার্থী না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত থাকতে পারে না। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত