সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে নগরীতে দূষণ বাড়ছে। এই সংকট শহরের আবাসিক এলাকার চেয়ে বস্তি এলাকাগুলোতে বেশি। সংকট নিরসনে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ‘পরিবেশবান্ধব কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকেরা এসব কথা বলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে (৩য় তলায়), পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)'র সঙ্গে ঢাকা কলিং প্রকল্প যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ।
তিনি জানান, বর্জ্যের ফলে নগরের নিম্নআয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীদের নানারকম সমস্যায় ভুগতে হয় সারা জীবন। বর্জ্যের কারণে প্রায় ২১ রকমের সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্জ্যের ফলে বস্তি এলাকায় মশা মাছি হয়, খাবার নষ্ট হয়, দিনেও মশা কামড়ায়, দুর্গন্ধ হয়, পেট খারাপ, অ্যালার্জি/চুলকানি, জ্বর হয়, ডেঙ্গু হয়, মেয়েদের চুল পড়ে, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, হাঁপানি, খোস পাঁচড়া, কাশি, ঘুম কম হয়, প্রেশারের সমস্যা হয়।
বেসরকারি সংস্থা বারসিকের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে পাভেল পার্থ আরও বলেন, অধিকাংশ মানুষ ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলে যত্রতত্র ফেলে এবং এর তদারকি করার কোনো কমিটি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নেই। অনেক সময় ময়লার মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় এবং ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে বসবাস কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বর্ষাকালে কঠিন বর্জ্যের কারণে বিশেষ করে প্লাস্টিক ও পলিথিন খাল ও ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দিয়ে নগরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।’
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘ঢাকা শহরে বর্জ্য সমস্যা সমাধান করতে চাইলে বস্তি বাসীর উন্নয়ন ছাড়া সম্ভব না। বস্তি বাসীর প্রতি বৈষম্য থাকার কারণে বস্তিবাসী আজ কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে। বর্জ্য সমস্যা সমাধান করতে চাইলে সবার প্রথমে বস্তিবাসীর বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে। বর্জ্যকে কীভাবে সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।’
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পরিবেশকে সংরক্ষণ করে ও পরিবেশকে ঠিক রেখে কাজ করতে হবে। ৫০- ৬০ বছর আগে প্লাস্টিকের আবিষ্কার আমেরিকায়।
বর্তমানে প্লাস্টিক আমাদের গলার কাটা। প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২০০২ সালে। আমাদের অনেক ঘাটতি থাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে পারিনি। শিগগিরই এর ব্যবহার বন্ধে আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে।
