বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। এর অর্থ হচ্ছে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, ডিসি, ইউএনওদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। জনগণের পকেট কেটে তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’ গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শিল্পকারখানায় যে গ্যাস ব্যবহার করা হয় সেই গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। এর কারণে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে। ফলে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। অনির্বাচিত সরকার গত বৃহস্পতিবার যে বাজেট ঘোষণা করেছে সেটা জনগণের জন্য নয়। এই সরকার জনগণের শত্রু। এই বাজেট জনগণের গণশত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’
জাতীয় সংসদে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে ভালো কথা বলেছেন। বলেছেন, পদ্মা ব্রিজ একটি গোল্ডেন ব্রিজ। সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকায় করেছে। বাকি সব টাকা চুরি করেছে।’
পদ্মা সেতুর টোল নিয়ে সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, রাজপথে সেøাগান দিতাম। তখন ১০ টাকা তেলের দাম বাড়লে বিরাট দাম বেড়ে যেত। তখন আমরা বলতাম, ১০ টাকার তেল খেয়ে স্বর্গে যাব। এখন বলতে চাই, পদ্মা ব্রিজ দিয়ে এবং ওই ব্রিজের টোল দিয়ে স্বর্গে যাব।’
তিনি বলেন, ‘এই বাজেট কাদের সাহায্য করেছে? যারা চুরি, ডাকাতি, লুণ্ঠন করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে তাদের জন্য। তারা এখন মাত্র ৭ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে টাকা ফেরত আনতে পারবে। কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ধরবে না, হাইকোর্ট থেকেও তাদের কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। যারা এই বাজেট দিয়েছে, তারা কি এই সাধারণ মানুষের সরকার? চোর, ডাকাত, লুটেরাদের সরকার।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনার কবল থেকে আমাদের অবশ্যই মুক্তি পেতে হবে। আর এই মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী সরকারকে পছন্দ করেনি। তাই সরকারকে বলছি এখনো সময় আছে, পদত্যাগ করুন। এমন এক সময় আসবে আপনি পালানোর সময় পাবেন না। কারণ দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে।’
সভা-সমাবেশে পুলিশকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা আশা করব, আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আওয়ামী লীগকে যেমন মিটিং-মিছিল করতে দেন, আমাদেরও দিতে হবে। সেখানে বাধা দিলে জনগণ তা মানবে না। বিনা কারণে মানুষকে তুলে নিয়ে অত্যাচার করবেন না। এজন্য একদিন না একদিন জবাবদিহি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যে প্রতিবাদ সভা হচ্ছে। আস্তে আস্তে দেশের জনগণ রাস্তায় নামা শুরু করছে। যেভাবে একের পর এক পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানো হয়েছে, একইভাবে আন্দোলনের স্প্যান বসানো হচ্ছে। যেদিন এই স্প্যান বসানো শেষ হবে সেদিন তাদের বিদায় করা হবে।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ইকবাল শ্যামল, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।
