‘দেশা : দ্য লিডার’, ‘হিরো ৪২০’, ‘পাষাণ’-এরপর এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা সৈকত নাসির প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসছেন রোমান্টিক-থ্রিলার গল্পের সিনেমা ‘তালাশ’। আগামী ১৭ জুন অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত চিত্রনায়ক আদর আজাদ ও চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। এ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হবে আদর আজাদের।
শুরু থেকেই সিনেমাটি ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। মুক্তি সামনে রেখে এরই মধ্যে সিনেমাটির গান, ফার্স্টলুক, ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশ হয়েছে। অন্তর্জালে সিনেমাটির গান ও ট্রেলার প্রশংসিত হয়েছে। স্বল্প বাজেটে সিনেমাটি নির্মিত হলেও ট্রেলার অবমুক্ত হওয়ার পর থেকে সিনেমাটি ঘিরে নেটদুনিয়ায় চলছে বেশ আলোচনা। অনেকেই ট্রেলার ও গান দেখে আদর-বুবলীর প্রশংসা করছে।
পরিচালক সৈকত নাসির বলেন, ওয়ার্ল্ড রেকর্ড আছে ছোট বাজেটের সিনেমা গল্প, মেকিং ও অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়ের কারণে হুট করে বড় বাজেটকে পেছনে ফেলে দেওয়ার। আমার এ সিনেমার গল্পই মাস্টার পিস। বাজেট এখানে সাবজেক্ট নয়। সিনেমাটির গান ও ট্রেলার দর্শক খুবই পছন্দ করেছে। এরই মধ্যে বড় প্রেক্ষাগৃহগুলো বুকিং হয়েছে। এতটুকু বলতে পারি, দর্শক ভালো কিছু পেতে যাচ্ছে।’
দর্শক কেন সিনেমাটি দেখতে যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সৈকত নাসির বলেন, দর্শক ‘তালাশ’ দেখতে যাবে তার প্রথম কারণ হচ্ছে, এটি সৈকত নাসিরের সিনেমা। দ্বিতীয়ত, আমার সিনেমার গল্পটা খুবই স্ট্রং। এই গল্পটা মানুষকে টাচ করবে এবং মানুষ ছবিটা ভালোভাবে গ্রহণ করবে। এই সিনেমায় যারা অভিনয় করেছেন তারা খুবই ভালো করেছেন। আদর একটা নতুন ককটেল। আদর খুব ভালো অ্যাক্টিং করেছে। বুবলীও তার সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আদর-বুবলীর রসায়নটাও দারুণ। এর বাইরে আরও যারা অভিনয় করেছেন, সবাই খুব ভালো অ্যাক্টিং করেছেন।
এদিকে সিনেমাটি ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পরিচালক বলেন, ‘যে ভিডিওটা প্রচারিত হয়েছে সেটা আমরা বের করতে চাইনি। আমরা মূলত ‘মেকিং অব তালাশ’ বানাচ্ছিলাম। সেই ভিডিওরই একটা অংশ কেউ ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে যাই হোক না কেন আমরা একটা সিনেমা বানিয়েছি সিনেমাটা সম্পর্কে মানুষকে জানানো দরকার, সেটা আমরা জানাচ্ছি। নেতিবাচক প্রচারণা নয়, মানুষ সিনেমাটি দেখবে সিনেমাটির মেরিটের কারণেই।’
এই সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে আদর আজাদের। তিনি বলেন, ‘মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। ভয় আছে আবার ভালোও লাগছে। আবার এক্সাইটমেন্টও কাজ করছে। দর্শক কীভাবে নেবে তার জন্য একটা টেনশনও আছে। সব মিলিয়েই মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। আর সিনেমাটা মানুষ নানা কারণেই দেখবে। কেউ প্রেম করলেও সিনেমাটা দেখতে হবে, প্রেম না করলেও দর্শক সিনেমাটা দেখবে।’
শবনম বুবলী বলেন, ‘করোনায় অন্য সেক্টরের মতো আমাদের চলচ্চিত্রেও অনেক ক্ষতি হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ খোলার পর সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা। প্রেক্ষাগৃহ খোলার পর সেভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো দর্শক টানতে না পারলেও ঈদুল ফিতরের সিনেমা দিয়ে দর্শক আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরেছেন। এটি আমাদের সিনেমার জন্য আশীর্বাদ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বেশি দিন লাগবে না আমাদের সিনেমার ক্রান্তিকাল দূর হতে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের জুটির প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে কাজ করেছি। আশা করি, দর্শক নিরাশ হবে না।’
ক্লিওপেট্রা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির কাহিনী পরিচালকের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন আসাদ জামান। এতে পাঁচটি গান রয়েছে। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন আসিফ আহসান খান, মাসুম বাশার, মিলি বাশার, যোজন মাহমুদ প্রমুখ।
