ধনী দেশগুলো ‘বেইমানি’ করছে

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১১:০৪ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশে^র ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো একাধিকবার মিলিত হলেও, এ নিয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দেশগুলো। প্রতিবাদে জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তা শুধু কাগজে-কলমেই থেকে যায়। কার্যত ক্ষতিপূরণ দিতে ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। তারপরও আগামী নভেম্বরে মিসরে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের (কপ২৭) আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে আলোচনা রাখার আশা করছে দরিদ্র দেশগুলো। ধনীরা জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে বেইমানি করছে বলেও তাদের দাবি। উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ধনী দেশগুলো কয়েক শ বছর ধরে যেসব ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ করে আসছে, তারই জের টানতে হচ্ছে গরিব দেশগুলোকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য তাদের অর্থ দরকার। কারণ ধনী দেশগুলোর তুলনায় তাদের বেশি ভুগতে হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপখাইয়ে নেওয়ার মতো আর্থিক সংগতিও তাদের কম। গত বছর জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ২৬-এ দ্বীপ রাষ্ট্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো কার্বন নির্গমন কমাতে রাজি হয়েছিল এই প্রতিশ্রুতি পেয়ে যে ধনী দেশগুলো এর জন্য একটি ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া চালু করবে। কিন্তু বনের আলোচনায় তারা অভিযোগ করছে, এ বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। পরিবেশবিষয়ক থিংক ট্যাংক ই৩জির অ্যালেক্স স্কট বলেন, ‘(উন্নয়নশীল দেশগুলো) ছাড় দেওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছিল এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যে (ধনী) দেশগুলো আলোচনা শুরু করবে এবং ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে কীভাবে অর্থায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা যায় তা দেখবে। কিন্তু এখানে আমরা তেমন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না; বরং এখানে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আলোচনা করা হচ্ছে যে আমরা কিছু সমস্যা কীভাবে নিজেরাই সমাধান করতে পারি।’ অনেক অংশগ্রহণকারীর জন্যই বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ক্ষয়ক্ষতি।

কোস্টারিকার পরিবেশবাদী গোষ্ঠী অ্যাসোসিয়েশন লা রুতা দেল ক্লিমার আদ্রিয়ানা ভাসকুয়েজ রদ্রিকেজ বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা ২৫ বছর ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে আলোচনা করে পার করেছি। আমাদের অনেক পরিবার আছে, যারা বাড়িঘর হারিয়েছে, তাদের ফসল হারিয়েছে এবং একই সময়ে আমরা ঋণনির্ভর হয়ে পড়ছি।’ উন্নয়নশীল দেশগুলো বলে আসছে যে বর্তমানে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের যে বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করছে, তার কারণ মূলত ধনী দেশগুলোর ঐতিহাসিকভাবে কার্বন নির্গমন করে আসা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি দায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এই বক্তব্য মানতে রাজি না। তাদের আশঙ্কা হচ্ছে, তারা যদি ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়, তাহলে তাদের দশক, এমনকি শতকের জন্য লাখ লাখ ডলার পরিশোধের একটি দায়ে আটকা পড়তে হবে। এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ক্ষয়ক্ষতির ওপর গ্লাসগো আলোচনা শুরু করা হয়, যাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের বনের বৈঠকে। গরিব দেশগুলো আশা করছে মূলত কারিগরি ওই বৈঠক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নভেম্বরে মিসরের শারম এল-শেখে অনুষ্ঠেয় কপ২৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত