প্রকল্পের কাজে ঘুষ ‘টেন পার্সেন্ট’

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১১:৩৬ পিএম

কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট হারে সব ধরনের প্রকল্প থেকে নিয়মিত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য তিনি ‘টেন পার্সেন্ট’ (১০ শতাংশ হারে) ঘুষ নেন। ‘টেন পার্সেন্ট’ টাকা নগদ না দিলে প্রকল্পের চেক আটকে রাখেন তিনি।

উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের কাছে অফিস সহায়ক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় একাধিকবার তার নাম উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও বন্ধ হয়নি টেন পার্সেন্ট আদায়। এমনকি স্থানীয়রা একবার তাকে ধরে পেটালেও ১০ শতাংশ হারে টাকা নেওয়া বন্ধ করেননি ফারুক।

উপজেলার কয়েকজন চেয়ারম্যান, বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি ও পিআইও কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর ভাষ্যমতে, উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শেখেরকোনা গ্রামের সাইফুল ইসলাম শেখের ছেলে ওমর ফারুক ২০১১ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে যোগ দেন। তারপর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। স্থানীয় হওয়ায় তার সুবিধা আরও বেশি। বিভিন্ন জেলা থেকে পিআইও হিসেবে যে কর্মকর্তাই এখানে যোগদান করুন না কেন, তাকেই বশে আনেন সুচতুর ফারুক হোসেন। এরপর টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প থেকে তার নাম ভাঙিয়ে ‘টেন পার্সেন্ট’ টাকা আদায় করেন।

এ ছাড়া কর্মসৃজনী প্রকল্পে শ্রমিক কম থাকলে তার ভাগও ফারুককে দিতে হয়। প্রকল্পের সভাপতি টাকা দিতে আপত্তি করলে আটকে রাখা হয় চেক। পিআইওর নাম করে অনিয়মের মাধ্যমে টাকা আদায় করে থাকেন তিনি। চলতি বছরের মার্চ মাসে তার নানা রকম দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুককে পেটায়। এরপরও তিনি পুরনো নিয়মে কাজ চালিয়েই যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ফারুক হোসেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নাম করে টেন পার্সেন্ট টাকা নগদ আদায় করে থাকেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেক আটকে রেখে টাকা পাওয়ার পর চেক হস্তান্তর করেন।

কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে ফারুকের মাধ্যমে টেন পার্সেন্ট টাকা আদায় করা হয়। এ ব্যাপারে আমি উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় একাধিকবার প্রতিবাদ করেছি।

ওমর ফারুক বলেন, স্যারের অধীনে চাকরি করি। তিনি যেভাবে বলেন, আমি সেভাবেই কাজ করি। আমার কাজ স্যারের নির্দেশ অনুসারে ফাইলপত্র বহন করা। আমি কীভাবে টাকা নেব!

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতি.) ইমরুল কায়েস বলেন, এগুলো আগের ঘটনা। এ বিষয়ে আমি ভালো জানি না। আমি এই উপজেলায় এক মাস হলো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। তবে আমি যত দিন আছি এ রকম ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, এ বিষয়ে তাকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও অনিয়ম করে থাকলে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রণজিত কুমার সরকার বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত