বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সুনামগঞ্জ সিলেট বিমানবন্দরে পানি, ফ্লাইট বন্ধ

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ০৫:১৪ এএম

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বড় বিপদে পড়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের লাখ লাখ মানুষ। সিলেট থেকে যে গ্রিড স্টেশনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো সেটা তলিয়ে গেছে। ফলে সুনামগঞ্জ পুরোপুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে একটি গ্রিড স্টেশন থেকে এখনো সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। যেকোনো সময় সেটাও তলিয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে রানওয়ে ডুবে যাওয়ায় গতকাল শুক্রবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সিলেট নগরীর সুরমা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ও জেলার ছয়টি এবং সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার সবই বন্যাকবলিত। সিলেটের কুমারগাঁওয়ের দুটি গ্রিড স্টেশনের একটি থেকে সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই স্টেশনটি তলিয়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কুমারগাঁওয়ের অন্য গ্রিড স্টেশনেও পানি উঠেছে। আর অল্প কিছু পানি বাড়লেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে সিলেট নগরীসহ পুরো জেলা। তবে স্টেশনটিকে সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, ফায়ারসার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। বালুভর্তি বস্তা দিয়ে স্টেশনটির চারদিকে উঁচু বাঁধ তৈরি করে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের সহায়তায় কাজ করছে সেনাবাহিনী। সিলেট সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি ওঠায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি খাদ্য গুদাম হুমকিতে রয়েছে। এগুলো রক্ষায়ও সেনাসদস্যরা কাজ করছেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুপুর ১২টা থেকে জিও ব্যাগ ফেলে কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি প্রবেশ ঠেকাতে কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। যাতে সিলেট শহরে অন্তত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। এরই মধ্যে সিলেটের কিছু এলাকা ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তবে সিলেট শহরে কত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে বলা যাচ্ছে না।

ভয়াবহ বন্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে গেছে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের আশেপাশেও বন্যার পানি দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে গতকাল বিকেল থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা। ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশ এবং বিদেশের বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বন্যার পানি ইতিমধ্যেই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে চলে এসেছে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫টি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ সম্ভব হয়েছে। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত