ভারী বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষজন।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার ৫, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের প্রায় তিন হাজার ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
শনিবার কালিয়াকৈর পৌরসভার হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, তিন নম্বর গেট, দিঘিরপাড়, ডাইনকিনি ও হরতকিতলা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও চলাচলের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় পড়েছে চরম বিপাকে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। বৃষ্টির পানিতে ভিজে ঘরের আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ, নদী-খাল দখল ও প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টি হলেই চরম দুর্ভোগে পড়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনসাধারণ। দীর্ঘদিন ধরে এই অচলাবস্থা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. খাত্তাব মোল্লা জানান, আনসার একাডেমির উত্তর পাশে পৌরসভার ড্রেনের ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করায় ভবনের নিচে ময়লা-আবর্জনা আটকে গিয়ে ঘর-বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ওই ভবনের নিচে পরিষ্কার করতে না পারায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওয়ালটন কারখানা কর্তৃপক্ষ পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের ওপর মাটি ভরাট করে বাউন্ডারি নির্মাণ করায় ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আমরা এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করার চেষ্টা চালাচ্ছি।
কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মো. মজিবুর রহমান বলেন, সারা দেশেই এই সমস্যা চলছে, আমাদের পানি যে দিক দিয়ে বের হয় সেদিক দিয়ে বেরও হচ্ছে কোনো বাধাও নেই। তবে এত বেশি বৃষ্টি হয়েছে, আবার এদিকে নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সহজে পানি বের হয়ে সারতে পারছে না। আমরা চেষ্টা করছি এবং আমাদের লোকজন সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছেন। আশা করছি অতি তাড়াতাড়ি পানি চলে যাবে।
