সময় পেরোলেও খাদ্য সহায়তা পাননি জেলেরা

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ০৩:২৮ এএম

দেশের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও মাছের বংশবিস্তারে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে গত ২০ মে। নিষিদ্ধকালীন মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের জেলেরা পায়নি তাদের খাদ্য সহায়তা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভিজিএফের ৫৬ কেজি চাল বিতরণ সম্পন্নের সময়সীমা ছিল গত ১০ জুন। সেই সময়ও ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় বেকার জেলে ও তাদের পরিবার অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

সূত্র জানায়, দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিন (২০ মে থেকে ২৩ জুলাই) মাছ ধরা নিষিদ্ধকালে মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য ১৬ হাজার ৭৫১ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রতিটি জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে ৪২ দিনে (২০ মে-৩০ জুন) মোট ৫৬ কেজি চাল প্রদান করা হবে। সরকারের এ সংক্রান্ত মঞ্জুরি আদেশে প্রথম ধাপের চাল ১০ জুনের মধ্যে উত্তোলন ও বিতরণ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সমুদ্রে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে সন্দ্বীপে এমন নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৭২ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫৫ জন রয়েছে উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে। ৩১৭ জন রয়েছে বাউরিয়া ইউনিয়নে।

সরেজমিনে বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, নিবন্ধিত জেলেদের একজনও খাদ্য সহায়তা পায়নি। ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বকুল জলদাস, বন্ধুলাল জলদাস, বলরাম জলদাস ও সূর্যলাল জলদাস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন আমরা বেকার হয়ে পড়ি। সরকার মৎস্যকার্ডধারী জেলেদের জন্য চাল দেয় শুনেছি। নিষেধাজ্ঞার এক মাস পার হয়ে গেলেও আমরা কোনো চাল পাইনি। খাবারের অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্দশায় দিন কাটছে।’

সারিকাইত ইউনিয়নের কয়েকজন জেলে জানায়, অল্প কয়েকজনের মৎস্য কার্ড আছে, বেশিরভাগের নেই। যাদের কার্ড আছে তারাও এখনো সরকারি কোনো সাহায্য পায়নি। ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ার বাসিন্দা কেশু রাম বলেন, ‘আমার পরিবারে ছয় সদস্য নিয়ে কষ্টে দিন কাটে। সরকারি চাল পেলে কোনোমতে চলতে পারব। চাল না পেলে না খেয়ে মরতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাউরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে আগে বরাদ্দ হওয়া চাল দেওয়া বাকি ছিল। ওগুলো দেওয়া শেষ হয়েছে মাত্র গত সপ্তাহে। দুয়েক দিনের মধ্যে ৫৬ কেজি চাল নিবন্ধিত জেলেদের বিতরণ করে দেব।’

সারিকাইত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির বলেন, ‘চাল বিতরণের সময় একজন ট্যাগ অফিসার থাকেন। তিনি বর্তমানে ভারতে আছেন। এছাড়া কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে এখনো চাল বিতরণ করতে পারিনি।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘দুই ধাপে জেলেদের ৮৬ কেজি চাল দেওয়া হবে। খাদ্য সহায়তার চাল ডিও হয়ে গেছে। এখনো যারা চাল বিতরণ করেনি, তারা যাতে দ্রুত করে তার জন্য ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত