ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যাওয়া একটি বিদ্যুতের খুঁটি জোড়াতালি দিয়ে চলছে গত ১৫ বছর ধরে। মাদারীপুর সদরের কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কলাগাছিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবারের বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে ওই খুঁটির মাধ্যমে। ঝড়বৃষ্টিতে ভিজে কাঠের খুঁটিটির নড়বড়ে অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও সমাধান পায়নি পরিবারগুলো। পরিবর্তন করা হয়নি খুঁটিটি।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটিটি মাঝ বরাবর ভেঙে যায়। এরপর পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ভেঙে যাওয়া খুঁটিটি পরিবর্তন না করে ভাঙা অংশ গোড়ার সঙ্গে কোনোরকম জিআই তার দিয়ে পেঁচিয়ে জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলাগাছিয়া গ্রামের খান বাড়ি ও বেপারী বাড়ির মধ্যে অবস্থিত বিদ্যুতের খুঁটিটি খুবই নড়বড়ে অবস্থায় আছে। জোড়াতালি দেওয়া তারগুলোতে মরিচা ধরে বেশিরভাগ অংশ ছিঁড়ে গেছে। খুঁটির বিভিন্নস্থানে বড় বড় ফাটলও ধরেছে। এছাড়া খুঁটি থেকে বসতঘরে যাওয়া তারগুলোর বেশিরভাগ অংশও নষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে শর্টসার্কিট হয়ে আগুন লেগে গেলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। খুঁটির ঠিক নিচেই একটি টং দোকান। দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া লোকদের অনেকে খুঁটির সঙ্গে হেলান দিয়েও বসেন। এ অবস্থায় যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অতিসত্বর খুঁটিসহ তারগুলো নিরাপদ দূরত্বে রেখে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল খান বলেন, ‘আমার বসতঘরের সামনেই উঠানের কোণে বিদ্যুতের পচা খুঁটিটি। ঘূর্ণিঝড়ে ভাঙার পর কিছু তার দিয়ে বেঁধে দিয়ে গেছে। এরপর একাধিকবার বিদ্যুৎ অফিসে জানালেও গত ১৫ বছরে এর সমাধান হয়নি। আমরাসহ আশপাশের ৩টি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ এই খুঁটি থেকে নেওয়া আছে। আমরা সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকি।’
মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মাদ জোনাব আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না। এখন জেনেছি, অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
