পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং এবং ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট। পদ্মা সেতু নিয়ে নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন প্রশ্নে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টের দেওয়া স্বতঃপ্রণোদিত রুলের শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, যোগাযোগ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছে আদালত। আগামী ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট।
২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ইউনূসের বিচার দাবি: আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর হাইকোর্ট বিষয়টি আমলে নেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার মনে করে পর্দার আড়ালে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস কলকাঠি নেড়েছেন বলে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কানাডার আদালত পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলা খারিজ করে দেওয়ার পর সরব হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো। পদ্মা সেতু ইস্যুতে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করায় ড. ইউনূসকে বিচারের মুখোমুখি করা এবং বিশ্বব্যাংক ও টিআইবির ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করে তারা। পরে এই প্রতিবেদনসহ আরও কিছু প্রতিবেদন নজরে এলে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত রুল দেয় হাইকোর্ট। পদ্মা সেতু নিয়ে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’র ৩ ধারা অনুযায়ী একটি কমিশন গঠন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে নারুলে তা জানতে চায় আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি কমিশন গঠনের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও জানতে চায় আদালত। এর ধারাবাহিকতায় গত রবিবার রুল শুনানি করতে আরজি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। গত সোমবার এ শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার (গতকাল) ধার্য করে হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
আমিন উদ্দিন মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন ওই আদেশের পর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আদালতকে জানিয়েছিল কমিশন গঠন প্রক্রিয়াধীন। একজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ পরিবর্তন হওয়া, করোনা সংক্রমণের কারণে নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। আজ (গতকাল) আদালত ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। আদেশের বরাতে তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠনের পর সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে বসবেন। দুই মাস পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ অন্যরা আদালতে প্রতিবেদন দেবেন। একই সঙ্গে রুলটি বিচারাধীন থাকবে।’
