নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত বেড়ে ৫

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ০৩:০৯ পিএম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর রায়পুরায় সবজির হাটে মালবাহী কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় মহাসড়কের রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মেশিনঘর বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর দুর্ঘটনা রোধে সবজি হাট মহাসড়ক থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

নিহতরা হলেন- রায়পুরার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ফজর আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৫৫), একই ইউনিয়নের নিলকুঠি এলাকার সায়েদ মিয়ার ছেলে মাসাকিন মিয়া (৪৫), মাহমুদাবাদ মিঠাবন হাটি এলাকার সেন্টু মিয়ার ছেলে রিপনের (২৮), মাহমুদাবাদ সরকার বাড়ির জনাব আলীর ছেলে বাচ্চু মিয়া (৫৬) এবং একই এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়ার (৫০)।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী কাভার্ডভ্যান সিলেটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

মালবাহী কাভার্ডভ্যানটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মেশিনঘর এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের বাম পাশের সবজি হাটে উঠিয়ে দেয়।

এ সময় মহাসড়কের পাশে থাকা সবজির হাটের সবজিবাহী ভ্যান ও ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফারুক মিয়া ও মাসাকিন মিয়া নামে দুই সবজি বিক্রেতা ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হয় কমপক্ষে ৭ জন। তাদেরকে পার্শ্ববর্তী ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রিপনের মৃত্যু হয়। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে বাচ্চু মিয়া এবং শাহজাহান মিয়ার মৃত্যু হয়। আর আহতদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নিহতদের লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের এমন নির্মম মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

নিহত শাহজাহানের ফুপাতো ভাই মীর দারুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে প্রভাবশালীরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে সবজির হাট বসিয়েছে। যার ফলে আমাদের ঝুঁকি নিয়ে হাটে সবজি বিক্রি করতে হয়।

আজকে আমার ভাই বাজারে গিয়েছিল সবজি বিক্রি করতে আর বাড়িতে ফিরল লাশ হয়ে। ভাইয়ের এমন নির্মম মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ হাটের অপসারণ চাই।

নিহত বাচ্চু মিয়ার প্রতিবেশী ফজলু মিয়া বলেন, প্রতিদিনের মত আজকেও সকালে বাচ্চু হাটে সবজি নিয়ে গিয়েছিল। পরে হাটে কাভার্ডভ্যান উঠিয়ে দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। তারা খুবই দরিদ্র পরিবার। সবজি বেঁচে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে। এখন সংসারটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতে পড়ে গেল।

মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী বলেন, নিহতদের মরদেহের সুরতাল করছে পুলিশ, ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের দাফন করা হবে।

ভৌরব হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোরে কাভার্ডভ্যানের চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যানকে জব্দ করলেও চালক পালিয়ে গেছে। এই ব্যাপারে থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত