অসন্তোষের শঙ্কায় শতাধিক পোশাক কারখানা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ০৬:৪৯ এএম

দেশের শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মে মাসের বেতনভাতা জুন মাসেও পরিশোধ করা হয়নি। এসব কারখানার বেশিরভাগই পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত। সংগঠন দুটির বাইরেও কিছু কারখানা রয়েছে। যারা সাবকন্ট্রাক্টে কাজ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধ করেনি এমন কারখানার এই তালিকা তৈরি করেছে। গত ২৭ জুন এই তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ২৯ জুন এই তালিকা এসেছে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে। সংশ্লিষ্ট একটি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঈদের আগে এসব কারখানা মালিক বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধ না করলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে পোশাক কারখানার মালিকদের কোরবানির ঈদের দুদিন আগেই সব বকেয়া বেতনভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, ৯ জুলাইর মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করেই শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হবে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাকশিল্প রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট, উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা, সঠিক অবকাঠামোর অভাব, নেতিবাচক প্রভাব, ক্রয়াদেশ কম পাওয়া, পাওয়া ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার কারণে পোশাক কারখানার মালিরা শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করেন না বা করতে পারেন না। এছাড়াও নোটিস ছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন কারণে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ঢাকা মহানগরী, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৪ হাজার ৩৪৭টি পোশাক কারখানার মধ্যে ১০৪টি কারখানা কর্তৃপক্ষ মে মাসের বেতনভাতা জুন মাসেও পরিশোধ করেনি। ঈদের আগে এসব কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ না করলে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশেনের (বিজিএমইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল্লাহ আজিম গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের ছুটির আগে সময়মতো সব পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়ে যাবে। অধিকাংশ কারখানায় ৭ জুলাইয়ের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করা সম্পন্ন হবে। কিছু কিছু কারখানায় ৮ ও ৯ জুলাই পরিশোধ করা হবে।’

ঈদের আগে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে গত ২৮ জুন রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত তৈরি পোশাক (আরএমজি) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভা হয়। ওই সভায় ৭ জুলাইয়ের মধ্যে বেতনভাতা পরিশোধের বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতনভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেই কারখানা ছুটি দেওয়া হবে। বেতনভাতা পরিশোধ না করে কোনো কারখানা ছুটি দিতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত