দেশে করোনার ওমিক্রনের নতুন উপধরন বিএ.৫ দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ঢাকার মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ এ তথ্য জানিয়েছে। (আইসিডিডিআর,বি)।
আইসিডিডিআর,বি বলেছে, গত ১৯ মে ঢাকায় প্রথম সন্দেহভাজন ওমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্ট বিএ.৫ শনাক্ত হয়। এরপর গত প্রায় ছয় সপ্তাহে উপধরনটি সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ঢাকায়। এ সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং ব্যবহার করে ৫২টি কভিড-১৯ পজিটিভের মধ্যে ৫১টি বিএ.৫ সাব-ভ্যারিয়েন্ট এবং একটি বিএ.২ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল।
আইসিডিডিআর,বি আরও জানায়, ওমিক্রনের বিএ.৪ ও বিএ.৫ সাব-ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। এটি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। দেশে গত ১৪ মে থেকে ২৪ জুন ছয় সপ্তাহ বিএ.৫ সাব-ভ্যারিয়েন্ট সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। সক্রিয় এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট অন্য যেকোনো ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি সক্রিয়। যদিও বিএ.৫ দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতার তীব্রতা কম।
এক দিনে করোনায় রোগী ও মৃত্যু কমেছে : দেশে গত এক দিনে করোনায় নতুন রোগী এবং মৃত্যু কিছুটা কমেছে। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৯৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এর আগের দিন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৫ জন। সেদিন মৃত্যু হয়েছিল ১২ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৮২ হাজার ৯৭২ জন। পাশাপাশি মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১৮১ জনের।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ৯৩২টি। এতে শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশে। এর আগের দিন গত সোমবার এ হার ছিল ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এর আগে এর চেয়ে বেশি শনাক্ত হার ছিল ১০ ফেব্রুয়ারি ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দেশে করোনা শনাক্তের হার ১০-এর ওপরে ছিল গত ১৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে কমে আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ২৮৫ জনের মধ্যে ১ হাজার ৩৬৩ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। ঢাকা জেলার ১ হাজার ৩৬৩ জন নিয়ে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৬২৭ জন। এর বাইরে চট্টগ্রামে ১৩৬, ময়মনসিংহে ৪২, বরিশালে ৭২, রাজশাহীতে ৪৭, খুলনায় ৩৭, রংপুরে ১৮ ও সিলেটে ১৯ জন আক্রান্ত হন। এমনকি দেশের মোট ৫৫টি জেলায় গত এক দিনে নতুন রোগীও ধরা পড়েছে। গত এক দিনে যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের সবাই পুরুষ। তাদের ৬ জন সরকারি হাসপাতালে এবং একজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
