অনাহারে সাড়ে ৩৪ কোটি মানুষ

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২২, ০৯:৫০ পিএম

বিশ্ব জুড়ে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাবারের দামও। এই কারণে বিশ্বে এখন সাড়ে ৩৪ কোটি মানুষ অনাহারের শিকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বিষয়ক সংস্থা।

সংস্থাটির ভাষ্য, এক বেলার খাবারের সংস্থান করার মতো অর্থ নেই তাদের হাতে। বিশ্বের বহু দেশে আবার খাবারেরও আকাল। ফলে বেশ কয়েকটি দেশে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে ২০২১ সালের শুরুতে অনাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ২৭ কোটি ৬০ লাখের কাছাকাছি, যা এখন ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২০-র গোড়ায় কভিড মহামারী পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে এমন মানুষেরা সংখ্যায় ছিল আনুমানিক সাড়ে তের কোটি।

চলতি পরিস্থিতির পেছনে কভিড মহামারীজনিত আর্থিক দুরবস্থা তো আছেই, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধান কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। দুটি দেশই বিশ্বের বহু দেশকে জ্বালানি এবং খাদ্যসামগ্রী রপ্তানি করত। যুদ্ধ শুরুর পর তা অনেকাংশেই বিঘি্নত হয়েছে।

জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, কভিড-১৯ মহামারী, জলবায়ু পরিবর্তন, সশস্ত্র সংঘাত ইত্যাদির কারণে ক্ষুধা ও অপুষ্টি অবসানের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। কভিডের কারণে বিপর্যস্ত সরবরাহ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফেরার আগেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের পেছনে সেটা অন্যতম কারণ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান ডেভিড বিশলের মতে, সাড়ে ৩৪ কোটি মানুষের অনাহার, অর্ধাহারে থাকার ঘটনা নজিরবিহীন। তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় অনাহার, অর্ধাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারও সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি বিষয়ক অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন ভোজ্য তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধই প্রধান কারণ। দুটি দেশেই অন্যতম শস্য হলো সূর্যমুখী ফুল। যা থেকে তৈরি তেল তারা গোটা বিশ্বে সরবরাহ করত। দুই দেশ থেকেই তা আসা বন্ধ আছে। একইভাবে তারা বিশ্বের বহু দেশকে গম সরবরাহ করে থাকে। সেটারও জোগান দিন দিন কমছে। ফলে আটা-ময়দার দামও নাগালের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার রাশিয়া এবং তার মিত্র বেলারুশ পটাশের বৃহত্তম রপ্তানিকারক, যা সারের একটি মূল উপাদান।

বিপুল পরিমাণে গম সরবরাহের কারণে ইউক্রেনকে বিশ্বের রুটির ঝুড়ি বলা হয়। অনেক দরিদ্র দেশকে তারা গম দিয়ে সাহায্য করত। খাদ্য কর্মসূচির প্রধান বিশলের মতে, ইউক্রেনের গম এবং অন্যান্য শস্যের রপ্তানির কথা মাথায় রেখে যুদ্ধ থামাতে একটি রাজনৈতিক সমাধান সূত্র বের করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। ইউক্রেন যুদ্ধে এত বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী প্রভাব দেখা দিত না যদি সময়মতো রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা হতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত