ব্রেক্সিটের পক্ষে থেকে বিশাল বিজয় এরপরই কভিড-১৯ এবং নানা বিতর্ক, মন্ত্রীদের পদত্যাগ, নিজ দলের বিদ্রোহ। শেষমেশ দলীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন বরিস জনসন। এই পরিস্থিতিতেই যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ধারণা করা হচ্ছে আজ বুধবারই ভোটাভুটি হতে পারে।
অনাস্থা প্রস্তাব আনার অর্থ হচ্ছে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের আইনপ্রণেতারা জনসনের সরকার বহাল থাকবে কি থাকবে না, তার ওপর ভোট দিতে পারবেন। ভোটে বর্তমান সরকার উৎরে না গেলে সেটার ধাক্কায় নতুন জাতীয় নির্বাচনের পথ খুলে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জমে উঠেছে তার উত্তরসূরি হওয়ার লড়াই। কনজারভেটিভ দলের প্রার্থীদের দৌড়ে আলোচিত হচ্ছে ঋষি সুনাকের নাম। বরিস জনসনকে সবাই মিলে চেপে ধরার বিপক্ষে আছেন তিনি। তার কাছে বরিস জনসন এখনো ‘স্মরণীয়’ একজন।
বিবিসির এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন ৯ জন। প্রার্থীরা হলেন- পেনি মর্ডান্ট, সাজিদ জাভিদ, জেরেমি হান্ট, গ্র্যান্ট শ্যাপস, নাদিম জাহাবি, কেমি বাদেনক, সুয়েলা ব্রেভারম্যান, টম তুগেনধাত এবং ঋষি সুনাক। প্রার্থীদের মধ্যে মতের পার্থক্যের কারণ বা একমাত্র বড় কারণ হচ্ছে ট্যাক্স।
আর এটিই প্রার্থীদের নেতৃত্বের দৌড়েও এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রার্থীরা তাদের নানা পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করছেন। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে বাড়তে থাকা জীবনযাত্রা ব্যয় মোকাবিলা এবং থমকে থাকা প্রবৃদ্ধি সচল করার নানা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন তারা। ইতিমধ্যে জাভিদ, হান্ট, জাহাবি এবং শ্যাপস- এই চারজন কর কমানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু ঋষি সুনাক ট্যাক্স কমানোর পদক্ষেপ নিতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করা দরকার বলে মনে করেন।
এদিকে প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের তালিকায় সম্ভাবনাময় আরেক প্রার্থী হিসেবে যোগ হতে পারেন প্রীতি প্যাটেল।
দলের ভেতর তীব্র অনাস্থার জেরে গত বৃহস্পতিবার কনজারভেটিভ দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান বরিস জনসন। এখন নতুন দলীয় প্রধান নির্বাচিত হলে নিয়মানুযায়ী তিনিই হবেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
