মাত্র দুই সেকেন্ডেই শেষ নাভানা ফার্মার আইপিও নিলাম

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ১২:৪৬ এএম

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলামে মাত্র দুই সেকেন্ডই শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের। আইন অনুযায়ী, টানা ৭২ ঘণ্টা শেয়ার বিক্রির নিলাম অনুষ্ঠিত হলেও শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস (প্রান্তঃসীমা মূল্য) আগে থেকে জেনে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এত স্বল্প সময়ে শেয়ার বিক্রি শেষ হয়ে যায়। নিলাম শুরুর দুই সেকেন্ডে বিক্রি হওয়া শেয়ার মূল্যের ভিত্তিতে নাভানা ফার্মার শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস ৩৪ টাকা নির্ধারণ হয়।

গত ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে ২৮১টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করে। এতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের সর্বোচ্চ ৩৪ টাকা ও সর্বনিম্ন ২০ টাকা দর ওঠে। নিলামে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারীরা মোট ২ কোটি ৭১ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৪টি শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়, যার মোট মূল্য ছিল ৮৮ কোটি ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০০ টাকা।  

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির বিধি অনুযায়ী, নিলামে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যের (এনএভিপিএস) ১ দশমিক ২ গুণের বেশি শেয়ার দরে প্রস্তাব করা যায় না। ফলে কাট-অফ প্রাইস আগে থেকেই ধারণা করা যায়। তাই নিলামে শেয়ার পেতে যেসব বিনিয়োগকারী দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ দরের প্রস্তাব করতে পারেন, তাদেরই শেয়ারপ্রাপ্তির সম্ভাবনা বেশি থাকে। নাভানা ফার্মার শেয়ারের নিলামেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিলামে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ দরে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়। ফলে নিলাম শুরু হওয়ার মাত্র ২ দশমিক ৮ সেকেন্ডেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত কোটার শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন হয়ে যায়।  

নিলামে ৩৪ টাকা দরে ২৬৩টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০টি শেয়ার কেনার দরপ্রস্তাব করে, যার মূল্য দাঁড়ায় ৮৩ কোটি ৪৫ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া ৩৩ টাকা দরে ১০ জন বিনিয়োগকারী, ৩২ টাকায় ৪ জন, ২৭ টাকায় ২ জন এবং ২৫ ও ২০ টাকায় একটি করে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়।

নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এরমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৯ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার। কাট-অফ প্রাইস ৩৪ টাকা দরে ৫৭ লাখ ৫৯ হাজার ১২০টি শেয়ার বরাদ্দ রয়েছে। এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কাট-অফ প্রাইসের চেয়ে ৩০ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বরাদ্দ করা হবে।   

গত ৮ জুন নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের প্রান্তঃসীমা মূল্য (কাট-অফ প্রাইস) নির্ধারণে নিলামের অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস ভবন নির্মাণ, নতুন ইউটিলিটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ভবন নির্মাণ, সেফালোস্পোরিয়ান ইউনিটের সংস্কার, আংশিক ঋণ পরিশোধ ও আইপিওজনিত ব্যয় করবে।

নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৯ পয়সা। আর বিগত পাঁচটি আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী ভারিত গড় হারে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫১ পয়সা। ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ৪৩ টাকা ৫৩ পয়সা ও পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভিপিএস হচ্ছে ১৯ টাকা ২ পয়সা।

আইপিওর শর্ত অনুসারে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস কাট-অফ প্রাইস থেকে ৩০ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ইস্যু করবে। এছাড়া ফেয়ার ভ্যালু থেকে ২০ শতাংশ প্রিমিয়ামে কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করতে পারবে, যা দুই বছর লক-ইন থাকবে। উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত