বর্ষায় রাঙ্গামাটির পাহাড় প্রকৃতি অন্য রূপে ধরা দেয়। সবুজ পাহাড় আর ঝরনার ছলছল শব্দে এসময় প্রকৃতির সজীবতা ফুটে ওঠে। আর এই সুন্দর সময়ে ঈদের ছুটি। সবমিলিয়ে দারুণ এক সুযোগ ছিল রাঙ্গামাটির পর্যটনের জন্য। কিন্তু পর্যটকহীনতায় সেই আশা এখন হতাশার জন্ম দিয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ঈদের ছুটিতে ভালো পর্যটকের আশা করলেও খুব একটা পর্যটক মেলেনি এবার রাঙ্গামাটিতে।
শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার হোটেল স্কয়ার পার্ক যাত্রা শুরু করেছে কভিডের ঠিক আগের বছর ২০১৮ সালে। পুরোই পর্যটকনির্ভর এই হোটেলের স্বত্বাধিকারী নেয়াজ আহমেদ বলেন, আমার হোটেলে ৬৫টা রুম। ঈদের আগের দিন ৩টি, ঈদের দিন ৫টি আর ঈদের পরদিন ১০টি রুম বুকিং ছিল। যারা ছিলেন তাদেরও প্রায় অর্ধেক ছাড় দিয়েছি। এমন অভিজ্ঞতা আমার কাছে একেবারেই নতুন। কভিডের কঠিন সময়েও এত খারাপ অবস্থা হয়নি আমাদের।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়–য়া বলেন, এটা একেবারেই নতুন ও অবাক অভিজ্ঞতা। আমাদের মোটেলে তো এই সময়টায় রুম পাওয়াই দুরূহ। সেখানে এখন অনেক রুম খালি পড়ে আছে। আবার এই ছুটির সময়টাতে ঈদের দিন বা পরদিন যে স্থানীয় পর্যটকরা আসেন, এবার তারাও অপেক্ষাকৃত অনেক কম এসেছেন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন ঘাটের ইজারাদার রমজান আলী। বহু বছর ধরেই এই ঘাটের সঙ্গে নানাভাবে জড়িত থাকা রমজান জানালেন, এই ঈদের ছুটিতে, যারা হ্রদে নৌভ্রমণে বের হন এমন প্রত্যাশিত দর্শনার্থী পাননি তারা। যা পেয়েছেন তা অন্য সময়ের তুলনায় বেশ কম। এর জন্য গরম, কম ছুটি এবং রাঙ্গামাটি পর্যটনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কমতিকেই দুষলেন তিনি। তার ভাষ্য, পর্যটকদের আকৃষ্ট করার নানামুখী পদক্ষেপ থাকলে ভালো হতো।
শহরের পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা পুলিশ সুপারের পলওয়েল পার্ক আর জেলা প্রশাসনের রাঙ্গামাটি পার্ক মূলত ঈদের ছুটির সময়টাতে বেশ মুখর থাকে স্থানীয় পর্যটকদের উপস্থিতিতে। এবছর সেখানেও দৃশ্যত কমই দেখা গেছে উপস্থিতি। বাড়তি হৈ-হুল্লোড় যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না উপস্থিতির বাড়বাড়ন্তও।
সবমিলিয়ে এবারের ঈদের ছুটিতে বেশ খারাপ সময়ই কাটল পার্বত্য শহর রাঙ্গামাটির পর্যটনে। তবে শোনা গেল আশাবাদও। রাঙ্গামাটি পর্যটনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়–য়া বললেন, আগামী শুক্র ও শনিবার জমে উঠতে পারে পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
রাঙ্গামাটি শহরের রিসোর্টবেইজড পর্যটনের পথিকৃৎ বলা হয় রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ললিত সি চাকমাকে। প্রায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই রিসোর্ট দেখভাল করা ললিত বলেন, এবারের ছুটিতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হয়তো, তবে শঙ্কার নয়। সার্বিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছে। এই অবস্থা বদলাবে দ্রুতই। পাহাড়ের প্রকৃতি ও পরিবেশ, হ্রদ ও পাহাড় মানুষকে টানবেই।
