বৃষ্টিতে যেমন পোশাক

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২২, ০১:২৫ এএম

বর্ষার সময়টা বাইরে বের হলে পোশাক নিয়ে একটু বেশিই ভাবতে হয়। তাই চিন্তাভাবনা করে পোশাক বাছাই করলে বাড়তি ঝামেলা এড়ানো যায়। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে বৃষ্টির পোশাক কেমন হবে জানালেন মোহসীনা লাইজু

বর্ষাকালে মোটা, ভারী বুননের কাপড়ের পোশাক বাদ দিতে হবে। তেমনি হালকা রঙের পোশাকও পরা যাবে না। হালকা রঙের পোশাকে সহজেই দাগ পড়লে বোঝা যায় আবার বৃষ্টিতে ভিজে গেলে গায়ের সঙ্গে লেগে থাকে। তাই বৃষ্টির সময় আবহাওয়া উপযোগী কৃত্রিম তন্তুর তৈরি কাপড়ের পোশাকই আরামদায়ক এবং মানানসই হবে। সিনথেটিক জাতীয় (জর্জেট, শিফন, সিল্ক) কাপড় সহজে শুকিয়ে যায় এবং দাগ পড়লেও বোঝা যায় না। সালোয়ার-কামিজ, টপস বা শাড়ির ক্ষেত্রেও শিফন, সিল্কের প্রিন্টেডই উপযোগী হবে। বৃষ্টির সময়টাতে সাদা কাপড় মানানসই নয়, কালো কাপড়ও তেমনি পরা উচিত নয়। কালো কাপড় ভিজে গেলে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যায়। সাদা কাপড়েও ফাঙ্গাস বা ছিট পড়ার শঙ্কা থাকে।

বর্ষার সময় পোশাকের ঝুল একটু শর্ট অর্থাৎ পোশাকের নি-লেন্থ হলে ভালো। কারণ হাঁটার সময় কাদা ছিটে পোশাকে লাগার সম্ভাবনা থাকে। তেমনি কাদায় ময়লা হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে। সালোয়ারও আঁটসাঁট হলে ভালো হয়। বিশেষ করে বর্ষার সময় খুব ভারী, লং ও গর্জিয়াস পোশাক না পরাই ভালো। কারণ কোনো ভাবে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে শুকাতে সময় লাগে। আর চটি জুতা বা স্লিপার পরলে হাঁটার সময় কাদাপানি ছিটে পোশাক নষ্ট করে দেয়। তাই বর্ষার সময় এমন জুতা স্যান্ডেল বেছে নিতে হবে যাতে হাঁটলে পোশাকে কাদার দাগ-ছোপ না পড়ে। আর সিøপার জুতা স্যান্ডেল যদি পরেনও তাহলে পেছনে যেন বেল্ট থাকে।

ফ্যাশন ডিজাইনার শায়লা নূর জানান, ‘বৃষ্টির পোশাক নিয়ে নানা ধরনের মতবিরোধ আছে। কারও মতে সিনথেটিক পোশাকই উত্তম। তবে আমি বলব বৃষ্টির সময় সুুতি ফেব্রিকসের পোশাকই উপযোগী। কারণ বৃষ্টি হলেও আমাদের দেশে অনেক সময় গুমোট গরম পড়ে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। এমন আবহাওয়ার জন্য পাতলা সুতি পোশাক আরামদায়ক। সুতির ছাপা নকশার কাপড় পরাই ভালো হবে। কারণ হঠাৎ বৃষ্টিতে কাপড় ভিজে গেলেও অস্বস্তির কারণ হবে না। আর গরমটাও কম অনুভূত হবে।’

তাই বর্ষায় পোশাক নির্বাচনে পোশাকের ফেব্রিকস যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি রঙের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সিল্ক কাপড়ের পোশাক বর্ষার স্যাঁতসেঁতে বোরিং আবহাওয়ায় উজ্জ্বলতা দেবে। ক্রেপ সিল্ক, আর্ট সিল্ক, সেমি-তসর সিল্ক বা কটন মিক্স সিল্ক পরতে পারেন। এই সব ব্লেন্ডেড মেটিরিয়ালগুলো খুবই আরামদায়ক। শাড়ি, কুর্তি, টপস, সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যায় এই সব কাপড়ের ওপর। সিল্কের কাপড় বাতাসে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। বর্ষায় একক আধিপত্য হিসেবে নীল রংকে প্রধান্য দিলেও এর পাশাপাশি কলাপাতা, আকাশি, সি গ্রিন আর ধূসর রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন। বৃষ্টির দিনগুলোতে এই ধরনের পোশাক পরলে দেখতে ভালো লাগবে। সুতির পাশাপাশি জর্জেট, শিফন, ক্রেপের শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ বেছে নিন। ভিজলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।

টাঙ্গাইলের বুনন শিল্পী নীলকমল বসাক বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে পোশাক ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন তন্তুর পোশাক বিশেষ উপযোগী। তাছাড়া শরীরে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন পোশাক না পরাই ভালো। বৃষ্টিতে পাতলা জর্জেট, সিল্ক বা সুতি ও মিশ্র সুতার পোশাক পরা বেশ আরামদায়ক। এই তন্তুগুলো পানি ধরে রাখে না। ফলে দীর্ঘক্ষণ ভেজা কাপড়ে থাকতে হয় না। সারা দিন বৃষ্টি হচ্ছে এমন দিনে এই ধরনের তন্তুর পোশাক পরা ভালো। তবে মাঝে মাঝে হঠাৎ রোদ আবার বৃষ্টি দেখা যায় সেক্ষেত্রে সুতির পোশাক বা লিলেনের পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। কারণ জর্জেটের পোশাক বা মিশ্র তন্তু বৃষ্টির জন্য উপযোগী হলেও রোদ উঠে গেলে বেশ গরম অনুভূত হয়। সুতি বা লিলেনের পোশাক পানি শোষণ করবে তাড়াতাড়ি আবার রোদ উঠলেও  গরম অনুভূত হবে না। তাই আবহাওয়া দেখে নিজের কাজের ধরন ও সারা দিনের কর্মপরিকল্পনার কথা বিবেচনা করে পোশাক বেছে নেওয়া উচিত।’

বৃষ্টির দিনে পোশাকের যত্ন

বৃষ্টিতে ভেজা পোশাক বাড়ি ফিরেই ধুয়ে দিতে হবে। না হলে দুর্গন্ধ ও তিলা পড়তে পারে। জর্জেট বা সিল্ক ধরনের পোশাক শ্যাম্পু অথবা মৃদু ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। এতে পোশাকের উজ্জ্বলতা ঠিক থাকে। সুতি বা লিলেন পোশাক পরিষ্কার করতে হালকা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন। বর্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলমারিতে রাখা কাপড় রোদে দেবেন। তেমনি বর্ষার সময় আলমারি ও ওয়ারড্রোবে থাকা কাপড় মাঝেমধ্যে রোদে দিলে কাপড়ের মধ্যে থাকা গুমোট গন্ধ কেটে যাবে। আলমারিতে কাপড় রাখার সময় কাপড়ের ফাঁকে ফাঁকে ন্যাপথলিন, শুকনো নিমপাতা বা সুতি কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে ছোট ছোট পোটলা করে রেখে দিন। এটা কাপড়কে ছত্রাক এবং পোকা থেকে বাঁচাবে এবং কাপড় ভালো রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত