কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চাপরার পাড় কানিপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় স্বামী শামীম মিয়া (২৫) পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলের দিকে চাপরারপাড় গ্রামের মোঃ শামীম মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের (১৯) বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে স্বামী-শাশুড়ি মিলে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেধড়ক নির্যাতন করলে স্ত্রী ফাতেমা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার্ড করেন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই দিন সন্ধ্যায় স্ত্রী ফাতেমার মৃত্যু হয়।
নিহতের পিতা সিদ্দিক আলী বলেন, শুক্রবার তারা আমাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসার কথা। জামাইয়ের দাবি, দাওয়াত খেতে আসলে যৌতুকের টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হবে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়। ইতোমধ্যে এক লাখ দিয়েছি। আবারও এক লাখ চাচ্ছে। আমি গরিব মানুষ এত টাকা পাই কোথায়। তারা যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই নির্যাতন করতো। অবশেষে আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমীন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শাশুড়ি সাহিদা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বামী শামীম পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
