মাঠঘাট ফেটে চৌচির, বিপাকে আমন চাষীরা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২২, ০৮:৫৫ পিএম

কৃষি নির্ভর উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে খরতাপে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ভরা বর্ষা মৌসুমেও নদ-নদীগুলো নেই কাঙ্খিত পানি। তাই উচু এলাকা গুলোতে যেন পানির জন্য হাহাকার হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে আমনচাষিরা। পানির অভাবে আমনধান রোপন করতে পারছে না। এরই মধ্যে অনেকেরই কড়া রোদে পুড়ে গেছে আমনের চারা ক্ষেত। 

অন্যদিকে বৃষ্টির পানির অভাবে বিপাকেও রয়েছেন পাট চাষিরাও। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ  দিতে না পারায় কাটতে পারছেন না ক্ষেতের পাট। 

কৃষকরা বলছেন, সময় মত পাট জাগ দিতে না পারলে পাটের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে সময় মত ধান রোপণ করতে না পারলে উৎপাদনও কমে যাওয়াসহ কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৪শ ৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা গত বছরে হয়েছিল ১ হাজার ২শ ২২হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে এ বছর জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন। গতবছর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ৫১ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। ফলন উৎপাদন হয় ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন। 

জুলাই ১-৩১ তারিখ পর্যন্ত মূলত আমনের চারা রোপণের কাজ চলে। কিন্তু এ বছর জুলাইয়ের শুরু থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরোলেও বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিরা চারা রোপণ করতে পারেননি। উপজেলা জুড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে আমন চাষ মূলত বৃষ্টি নির্ভর। সরকারি হিসেবেই আমন চাষের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ জমিতে সেচের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। যেখানে সেচের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানকার চাষিরাও বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। ফলে টানা ভারী বৃষ্টি না হলে কী হবে তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে চাষিদের।

সদর উপজেলার রহিমানপুরের কৃষক হোসেন আলী বলেন, আমনধান চাষাদের জন্য জমি প্রস্তুত কিন্তু পানির অভাবে রোপন করা যাচ্ছেনা। জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। অবাবাদি আবস্থায় জমি পড়ে আছে বলে জানান তিনি। 

নারগুন টেকাবাড়ির কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, বৃষ্টির অভাবে খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। জমিতে পানি থাকছেনা। এতে ফল-ফসল উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। 

ওই কৃষক আরো বলেন, জমির পাট  জমিতেই রয়ে গেছে। পানির অভাবে পাট পচাতে পারছি না। 

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষ্ণ রায় বলেন, প্রতি বছর জুলাই মাসে গড়ে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। এ বছর এখনও পর্যন্ত বড়জোর ১৭০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানির সমস্যায় অনেকে পাট কেটে আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। তানিয়ে আমরাও চিন্তায় আছি।  এখন পর্যন্ত কেবল মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। দ্রুত ভারী বৃষ্টিপাত না হলে সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন জানান, এ বছর খরার কারনে পাট চাষিরা পাট জাগ দিতে পাছেন না আবার আমন চাষিরাও পানির অভাবে জমি তৈরী করে আমন রোপন করতে পারছে না। এ অবস্থায় উৎপাদন যেন ব্যহত না হয় সেজন্য চারার বয়স ঠিক রেখে সম্পূরক সেচ প্রদান করে রোপন-কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে বিএডিসি ও বিএমডিএর সেচ পাম্পগুলো চলমান রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে দ্রুত বৃষ্টি না হলে এ অবস্থার অবনতি হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত