আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি ঘুরে আসলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বিকেলে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে টুঙ্গিপাড়ায় যান বিএনপির এ নেতা। শনিবার (১৬ জুলাই) বিষয়টি প্রকাশ পেলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ জানিয়ে জাহিদ হাসান রোজেল সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসেছি। বন্ধুরা যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে তাই ওরা বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করতে ভেতরে প্রবেশ করে। এটা খুব বড় কোনো বিষয় নয়।
এদিকে রোজেলের টুঙ্গিপাড়া সফরের বিষয়টি জানাজানি হলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে।
জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা রনজিৎ মন্ডল ও জাকারিয়া জাকিরের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সমাধি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া যান। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সফরসঙ্গী হন ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল। বিকেলে তারা পৌঁছান বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে। আওয়ামী লীগ নেতারা ভেতরে প্রবেশ করলেও জাহিদ হাসান রোজেল ছিলেন গেটে। এ সময় বিএনপির এ নেতা সাংবাদিকদের দেখে গাড়ির ভেতরে নিজেকে আড়ালের চেষ্টা করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকরা তার গাড়ির কাছে ছুটে গিয়ে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এখানে আসার কারণ জানতে চান। বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কোন ইচ্ছে আছে কি না, সে বিষয়টা পরিষ্কার হতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসার সময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন রোজেল।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মাসদাইর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ মন্ডল প্রথমে রোজেলের বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে রোজেলের দেখা হওয়া বা কথা বলার বিষয়টি জানালে রনজিৎ মন্ডল সব স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, সে আমাদের সঙ্গে গিয়েছিল। তবে গিয়েছিল পদ্মা সেতু দেখতে। সেতু ভ্রমণ শেষে আমরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে যাই।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার জাকারিয়া জাকিরও প্রথমে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। পরে সাংবাদিকরা রোজেলের যাওয়ার সব তথ্য-প্রমাণ আছে জানালে তিনি বলেন, এখানে সংবাদ পরিবেশন করার মতো কিছু নেই। আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে সেখানে গিয়েছিলাম।
এদিকে রোজেলের টুঙ্গিপাড়া সফরের বিষয়টি জানাজানি হলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। অনেকে মন্তব্য করেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার মামাতো ভাই ও ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার সুবাদে রোজেলকে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়নি। লিয়াজোঁ রাজনীতিতে বেশ অভিজ্ঞ রোজেল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে বেশ ভালোই আছেন। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং সাবেক মেম্বার জাকারিয়া জাকির ও থানা আওয়ামী লীগের সদস্য রনজিৎ মন্ডলের মাধ্যমে সবকিছুর ভাগ-বাঁটোয়ারাও পাচ্ছেন তিনি।
এমন নেতার হাতে থানা বিএনপির দায়িত্ব থাকলে দল দিন দিন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।
রোববার (১৭ জুলাই) এ বিষয়ে জানতে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেলের ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র ঘুম থেকে উঠেছি, পরে কল দিই’। এরপর তিনি আর ফোন ধরেননি।
